বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আইনের বয়সও বাড়ছে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা হলো, কিন্তু কোনো অ-আওয়ামী লীগ সরকারও সেটি বাতিল করেনি। আওয়ামী লীগ সরকার তার তৈরি আইন বাতিল করবে, এটি আশা করা কঠিন। কেননা আমাদের দেশে সরকার কোনো ভুল করে না। তারা শতভাগ সঠিক। আবার ক্ষমতার বাইরে গেলে সেই সঠিক আইনই বেঠিক হয়ে যায়।
১৯৭৫ সালের পর আওয়ামী লীগ ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল। তাদের উত্তরসূরি কোনো সরকার সেই আইনটি বাতিল করার প্রয়োজন বোধ করেনি। একইভাবে বিএনপি বা এরশাদ আমলে প্রণীত যেসব আইনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ জিহাদ ঘোষণা করেছিল, তারা ক্ষমতায় এসে সেসব আইনে একটি চিমটিও কাটেনি। বরং পূর্ববর্তী সরকারের তৈরি জুতায় পা রেখে চলতে তারা স্বচ্ছন্দ বোধ করে। ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার প্রণীত জননিরাপত্তা আইনটি বিএনপি সরকার ২০০২ সালে বাতিল করলেও সেই আইনের অধীনে মামলাগুলো বহাল রেখেছিল। এখনো অনেক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। আবার বিএনপি-জামায়াত সরকার জননিরাপত্তা আইনটি বাতিল করলেও তার স্থলে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন পাস করে। দুটি আইনের মধ্যে মৌলিক ফারাক নেই। তারা আইনটি প্রথমে করেছিল দুই বছরের জন্য। এরপর থেকে কত সরকার এল-গেল কিন্তু আইনটি ক্ষমতাসীনদের হাতিয়ার হয়েই আছে। এমনকি গত ৮ এপ্রিল আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে অক্কা পাওয়ার পরও এটি বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করে বর্তমান সরকার।






