পূর্ব লন্ডনে সিসিটিভি’র কল্যানে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ৫ কিশোর তরুণের দন্ড

শেডওয়েলে সংঘটিত ২টি সশস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িত ৫ তরুণের সবারই বিভিন্ন মেয়াদে জেল দন্ড হয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় দুর্বৃত্তদের পাকড়াও করা এবং বিচার করা সম্ভব হয়।

গত ৫ আগষ্ট কাউন্সিলের সিসিটিভি কর্মকর্তারা আপাদমস্তক ঢাকা পোষাক পরিহিত ৫ তরুণের একটি গ্যাংকে চি?িত করেন এবং তাদের সন্দেহজনক আচরণ সম্পর্কে পুলিশকে সতর্ক করেন। অফিসাররা জানতেন না যে, এই গ্যাং এরি মধ্যে সহিংস ডাকাতির ঘঠনা ঘটিয়েছে এবং আরেকটি ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্চেছ। মোহাম্মদ আহমেদ, আব্দুল সোবহান ও আবদিনুর রহমান সহ ৫ জনের (অন্য দুই জনের বয়স ১৭ হওয়ায় তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্চেছনা) এই দলটি রাস্তায় দুই পথচারিকে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আক্রমন করে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত ২.৩০ টায় ক্যাবল স্ট্রিটে, যেখানে তাদের হাতে আক্রান্ত হন ২৯ বছর বয়সী একজন পথচারি। দুর্বৃত্তরা উক্ত ব্যক্তির গতিরোধ করে এবং জোর করে তার কাছ থেকে অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে কর্ণওয়েল স্ট্রিটে দিয়ে দৌড়ে চলে যায়। এই ঘটনার ১৫ মিনিট পর এই একই গ্রুপ ৫২ বছর বয়সী রয়্যাল লন্ডন হসপিটালের একজন সার্জনকে হেঁটে বাসায় যাওয়ার পথে বার্ডেন স্ট্রিটে (ই১) গতিরোধ করে।

দুর্বত্তরা ঐ সার্জনকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়, হাত মুচড়ে দিয়ে মাটিতে চেপে ধরে এবং তার ওয়ালেট নিয়ে চম্পট দেয়। এই দুম্বটি ঘটনাই কাউন্সিলের সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়, যা আদালতে তাদের অপরাধের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। সোবহান ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরকে ক্যাভেল স্ট্রিটের কাছাকাছি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মোহাম্মদ আহমেদ ও আবদিনুর মোহাম্মেদকে ঘটনার তদন্তকালীন সময়ে গ্রেফতার করা হয়।

গত ২ নভেম্বর স্নেয়ার্সব্রুুক ক্রাউন কোর্টে শুনানিতে তারা দোষ স্বীকার করে নেয়। আদালত ছুরি রাখা ও দুম্বটি ডাকাতির দায়ে ওলওর্থের (এসই১৭) বাসিন্দা ১৯ বছরে মোহাম্মদ আহমদকে ৪ বছরের জেলদন্ড এবং ৬ মাসের জন্য কিশোর অপরাধী সংস্থায় রাখা আদেশ দেয়া হয়। দুম্বটি ডাকাতির সাথে জড়িত থাকায় পপলারের (ই১৪) বাসিন্দা ১৮ বছরের আব্দুল সোবহানকে ১৯ মাসের জেল দন্ড, (যা দুই বছরের জন্য স্থগিত থাকবে), পপলারের আবদিনুর মুহাম্মদকে ইয়াং অফেন্ডার ইন্সটিটিউশনে ২ মাস রাখাসহ ২ বছরের জেলদন্ড, ১৭ বছরের এক কিশোরকে ১২ মাসের রেফারেল অর্ডার এবং ১৭ বছরের আরেক কিশোর যে দুম্বটি ডাকাতির সাথে জড়িত থাকা ও চাকু রাখার দোষ স্বীকার করে নেয়ায় ডিটেনশন এন্ড ট্রেনিং ফ্যাকাব্বিতে ১৮ মাসের জন্য রাখার দন্ডে দন্ডিত করেন আদালত।

এ প্রসঙ্গে নির্বাহী মেয়র জন বিগস বলেন, বাড়ি ফেরার পথে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ওপর এই হামলা ছিলো পরিকল্পিত ও কাপুরুষোচিত। দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার ও শাস্তি প্রদানে পুলিশকে আমাদের সিসিটিভি অফিসাররা সহযোগিতা করায় আমি খুবই সন্তুষ্ট। বারার রাস্তাগুলোকে নিরাপদ রাখতে সিসিটিভির ভূমিকা সবচেয়ে কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বাসিন্দাদের কাছে অপরাধ নির্মুল সহ যে ইস্যূগুলো সর্বাধিক উদ্বেগের ও উ্কক্তার, তা নিরসনে আমাদের সকল সহযোগিদের সাথে যৌথভাবে কাজ করে যেতে আমরা বদ্ধপরিকর।

ডেপুটি মেয়র ফর কমিউনিটি সেফটি এন্ড ইক্যূয়েলিটিজ, কাউন্সিলর আসমা বেগম বলেন, নিরপরাধ মানুষের ওপর এ ধরনের সহিংস আক্রমণ মেনে নেয়া যায় না। তবে আমাদের রাস্তাগুলোকে নিরাপদ রাখতে সিসিটিভি অফিসাররা সদা সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্চেছন। ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত হওয়ার ঘটনাটি অপরাধ নির্মুলে কাউন্সিল এবং পুলিশের অংশিদারিত্বমূলক কাজের আরেকটি ভালো উদাহরণ। সেন্ট্রাল ইস্ট কমান্ড ইউনিটের ডিটেক্টিভ কনস্টেবল এন্ড্রু ব্রে বলেন, মাত্র সামান্য কিছু অর্থের জন্য তারা নিরপরাধ পথচারিদের টার্গেট করেছিলো। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ি তারা আপাদমস্তক মোড়া পোষাক পড়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পথচারিদের ওপর হামলা করে। ঐ রাতের অপরাধের জন্য দুর্বৃত্তরা উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে।

LEAVE A REPLY