লন্ডনে ভয়াববহ আকারে বেড়েছে নাইফ ক্রাইম। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ঝরে গেছে ১২টি তরতাজা প্রান। ডিটেকটিভ ও ইন্টেলিজেন্স বিভাগের সদস্যরা বলছেন, এসব অপরাধের সাথে জড়িতদের অধিকাংশই স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী।
চলতি ২০১৭ সালের ৫ মাসের মধে নাইফ ক্রাইমের ১৬তম ভিক্টিম হচ্ছে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দা সৈয়দ জামানুর ইসলাম। ২০ বছর বয়সী বাঙালী এই তরুনকে হত্যা করা হয়েছে তার মায়ের কোলেই। গত ১১ এপ্রিল দিনেদুপুরে ছুরি নিয়ে তার উপর আক্রমন চালানো হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
১২ মে শুক্রবার ইস্ট লন্ডন মসজিদে ছিলো জামানুরের নামাযে জানাযা। তাতে যোগদেন কমিউনিটির শতশত মানুষ। জানাযা শেষে নিজের সন্তানের জন্য সকলের কাছে দোয়া চান হতভাগ্য বাবা। বলেন এসব অপরাধ দমনে কমিউনিটিকে সোচ্ছার হওয়ার প্রয়োজন।
মেট পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৫ থেকে ১৭ সাল পর্যন্ত লন্ডনের বিভিন্ন স্কুল থেকে ৫৩৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ২১৫টি অস্ত্র পাওয়া যায় ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী তরুনদের কাছ থেকে। ৪টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এমন শিশুদের কাছে যাদের বয়স ছিলো মাত্র ১০ বছর। পুলিশ জানায়, গত এক সপ্তাহে লন্ডনের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০০ নাইফ জব্দ করা হয়েছে। লন্ডনে বিভিন্ন অপরাধের সাথে স্কুল পড়োয়াদের সম্পৃক্ততা এবং গ্যাং কালচার বৃদ্ধিতে জনমনে উদ্বেগের সৃস্টি হয়েছে।
এদিকে গত এক মাসের ব্যবধানে টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় মোট ৪টি নাইফ ক্রাইমের ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহে ১৩ মে পূর্ব লন্ডনের বাঙালী অধ্যুষিত বো এলাকায় ছুরিকাঘাতে ৪০ বছর বয়সী একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৪টার সময় ইলিং ক্লোজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে আধা ঘন্টার মধ্যে অ্যাম্বোলেন্স ও ডাক্তার আসলেও আহত ব্যক্তিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।। এঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুজনকে পুলিশ আটক করেছে। গত ১১ এপ্রিল মাইল এন্ড এলাকার ওয়েগার ষ্ট্রীটে কয়েকজন বাঙালী তরুণের ছুরিকাঘাতে নির্মম ভাবে প্রান হারান বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ২০ বছর বয়সী যুবক জামানুর।
নাইফ ক্রাইম রোধে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। এ জন্য লন্ডনজুরে ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট নাইফ ক্রাইম নামে একটি ক্যাম্পেইন চালু হয়েছে। মসুদ আহমেদ নামের এক বাঙালী যুবক এই ক্যাম্পেইনের সূচনা করেছেন। এতে সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে আহবান জানিয়েছেন। জামানুরের পরিবার ও স্বজনরাও চান অপরাধ দমনে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর ভুমিকা।
এদিকে মেয়র সাদিক খান বলেছেন- পুলিসিংসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের সীমাহীন ফান্ডিং কাটের প্রভাবে এসব অপরাধ বাড়ছে। তবে নাইফ ক্রাইম মোকাবেলায় পুলিশসহ প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
আর মেট পুলিশের কমিশনার ক্রেসিডা ডিক বলেছেন, নাইফ ক্রাইম বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন তিনি। তবে পুলিশ এই অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স ভ’মিকা নিচ্ছে। প্রয়োজনে স্টফ এন্ড সার্চ বৃদ্ধি করে নাইফ ক্রাইম মোকাবেলার হুশিয়ারী উচ্ছারন করেছেন মেট পুলিশের শীর্ষ এই নারী কর্মকর্তা।






