রাষ্ট্রীয় পেনশন বাড়তে পারে ৪.৭ শতাংশ

যুক্তরাজ্যে লক্ষাধিক পেনশনভোগী আগামী এপ্রিলে বাড়তি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় পেনশন বাড়তে পারে ৪.৭ শতাংশ। এই বৃদ্ধি গড়ে বছরে ৫০০ পাউন্ডের বেশি যোগ করবে আয়ে। তবে সরকারের বাজেটে আর্থিক চাপ বাড়বে। সমালোচকরা বলছেন, ট্রিপল লক নীতি দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

সরকারি সংস্থা অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ONS) জানিয়েছে, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে গড় আয় বেড়েছে ৪.৭ শতাংশ। যেহেতু সেপ্টেম্বরের মুদ্রাস্ফীতি হার ৩.৮ শতাংশের নিচে থাকবে বলে ধারণা, তাই ‘ট্রিপল লক’ সূত্র অনুযায়ী আয় বৃদ্ধির হার ধরে পেনশন বাড়বে। অর্থাৎ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশন এপ্রিল থেকে সপ্তাহে ২৩১ পাউন্ডের বেশি হয়ে যাবে।

কাজ ও পেনশনমন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মতোই লেবার সরকার ট্রিপল লক বহাল রাখবে। এর ফলে পুরোনো রাষ্ট্রীয় পেনশন সপ্তাহে ১৭৬ পাউন্ড থেকে প্রায় ১৮৫ পাউন্ডে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, এটি যুক্তরাজ্যের প্রবীণদের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এ ব্যয় টেকসই নয়। ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজ জানায়, ২০৭০-এর দশকে পেনশন খরচ জিডিপির ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যার অর্ধেকই ট্রিপল লকের কারণে হবে। অর্থনীতিবিদ হাইডি কারজালাইনেন বলেন, নীতি কখনো স্থিতিশীল সময়ে সস্তা হলেও অস্থির সময়ে এটি ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে শ্রমবাজারের দুর্বলতার ইঙ্গিত মিলছে। জুলাইয়ে বেকারত্ব হার ছিল ৪.৭ শতাংশ, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে গড় আয় বৃদ্ধিও কিছুটা কমেছে। কর বৃদ্ধির প্রস্তুতিতে থাকা অর্থমন্ত্রী রেচেল রিভসের জন্য এটি বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিরিক্ত কর চাপ কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ড আপাতত সুদের হার ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কারণ শক্তিশালী মজুরি প্রবৃদ্ধি যেমন মুদ্রাস্ফীতি উসকে দিচ্ছে, তেমনি দুর্বল চাকরির বাজার সুদের হার কমানোর যুক্তিও তৈরি করছে।