বৃষ্টল সেন্ট্রাল মসজিদে মুসলিম উম্মার সমৃদ্ধি কামনার মাধ্যমে পবিত্র লাইলাতুল বরাত পালিত

মুসলিম উম্মার একাত্মতা,সফলতা, বাংলাদেশের সফলতা ও সমৃদ্ধি কামনার মাধ্যমে বৃষ্টল সেন্ট্রাল মসজিদে গতকাল শনিবার (২০শে এপ্রিল ) পবিত্র লাইলাতুল বরাত (শব-ই-বরাত) উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত হয়েছে।

বৃষ্টল সেন্ট্রাল মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি মাসুক মিয়ার তত্বাবধানে ওয়াজ মাহফিলে পবিত্র লাইলাতুল বরাত (শব-ই-বরাত) এর তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ বক্তব্য রাখেন মসজিদের খতিব হাফিজ মৌলান ইকরাম উদ্দীন ও হাফিজ নাজমুদ্দৌলা।

লাইলাতুল বরাত এর পঠভুমি ও বিভিন্ন হাদিসের রেফারেন্স তুলে ধরে মসজিদের খতিব হাফিজ মৌলানা ইকরাম উদ্দীন তার আলোচনায় বলেন

শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত অনেক তাৎপর্যবহ ও গুরুত্বপূর্ণ,এ রাতকে ‘শবে বরাত’ বলা হয়। ‘শবে বরাত’ ফার্সি ভাষার দুইটি শব্দ। ফার্সিতে ‘শব’ মানে রাত আর ‘বরাত’ মানে মুক্তি। সুতরাং ‘শবে বরাত’এর অর্থ হলো মুক্তির রাত। শবে বরাতকে কোরআনে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ বলা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা মধ্য শাবানের রাত।হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, তাফসিরের কিতাব ও ফিকহের গ্রন্থগুলোতে ভিন্ন নামে, ভিন্ন শব্দে ও ভিন্ন পরিভাষায় শবে বরাতের আলোচনা এসেছে। যেমন- ‘লাইলাতুল কিসমাহ’ বা ভাগ্যরজনী, ‘লাইলাতুল আফউ’ বা ক্ষমার রাত, ‘লাইলাতুত তাওবাহ’ বা তাওবার রাত, ‘লাইলাতুল ইৎক’ তথা জাহান্নাম থেকে মুক্তির রাত, ‘লাইলাতুত দোয়া’ বা প্রার্থনার রাত।

শবে বরাতের ফজিলত, সওয়াব ও কল্যাণ সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মধ্য শাবানের রাতে—অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষী লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং : ৫৬৬৫, শুআবুল ঈমান, হাদিস নং : ৬৬২৮)।

তিনি শবে বরাতের রোজা সমন্ধে বেদাআতীদের ভ্রান্ত ধারনার জবাব দিয়ে বলেন, আলী (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘১৫ শাবানের রাত যখন হয়, তোমরা রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে পালন করো এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ প্রথম আসমানে এসে বলেন, ‘কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। কোনো রিজিক অন্বেষণকারী আছে কি? আমি তাকে রিজিক দেব। আছে কি কোনো রোগাক্রান্ত? আমি তাকে আরোগ্য দান করব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাদের ডাকতে থাকেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ১৩৮৮)।

হযরত আলা ইবনুল হারিছ রাহ. থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা রা. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল তিনি হয়তো মৃত্যু বরণ করেছেন।আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ করে বললেন, হে আয়েশা,তোমার কি এই আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ।আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। নবীজী জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইরশাদ করলেন- এটা হল অর্ধ-শাবানের রাত। (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত।)

আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।(’ শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ৩/৩৮২-৩৮৩)

ইমাম বাইহাকী রাহ. এই হাদীসটি বর্ণনার পর এর সনদের ব্যাপারে বলেছেন-এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এ রাতে দীর্ঘ নফল নামায পড়া, যাতে সেজদাও দীর্ঘ হবে, শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য।

তিনি যারা শবে বরাত নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে তাদের থেকে সতর্ক থাকার জন্য মুসল্লিদের আহ্বান জানান ও আল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত দান করেন এই দোয়া করেন।

ফজর নামাজের পুর্বে মিলাদ মাহফিল এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শানে সালাম ও দুরুদ পেশ করে বিশেষ মোনাজাতে মুসলিম উম্মার একাত্মতা,সফলতা,সমৃদ্ধি ও সবাইকে এক হয়ে ইসলামের পতাকাকে এগিয়ে নেওয়ার তাওফিক প্রদান করার জন্য মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা

হয়। উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে মসজিদ কমিটির ব্যবস্থাপনায় শিরনি বিতরন ও শেহরির খাবার পরিবেশন করা হয়।

বিশিষ্ট জনদের মধ্যে দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন মাসুক মিয়া,ছমরুল হক,শফিকুর রহমান চৌধুরী, গৌছ মিয়া, বাংলাদেশ হাউজ সভাপতি ফকরুল আলী,যুবলীগ বৃষ্টল বাথ এন্ড ওয়েষ্ট শাখার সভাপতি ও এটি এন বাংলা ইউ কে এর প্রতিনিধি খায়রুল আলম লিংকন,দিলদার মিয়া, প্রতাপ আলী, আব্দুল গফ্ফার,মখলিছ আলী,আব্দুল নাছির, মোবারক আলী, ওমর ফারুক,আঙ্গুর আলম, নেছার আলম রন্জু, শিবুল আলী, আব্দুস শহীদ, শহীদুল ইসলাম,শহীদুজ্জামান, আইয়ুব আলী, মনির মিয়া, রিপন আহমদ,শাহাব উদ্দীন, শিহাব উদ্দীন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY