যুক্তরাজ্যের স্কুলগুলোতে একটি “পুরুষত্ব সংকট” তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে শিক্ষক ইউনিয়ন। নারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নারী বিদ্বেষমূলক (মিসোজিনিস্টিক) আচরণ বাড়ছে, যার ফলে অনেক শিক্ষক নিজেকে “মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত”, “অপমানিত” ও “হেয়” বোধ করছেন।
একটি জরিপে অংশ নেওয়া নারী শিক্ষকদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জানান, গত ১২ মাসে তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নারী বিদ্বেষমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন — যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
একজন শিক্ষক জানান, এক শিক্ষার্থী তাকে অশালীন গালি দিয়েছে। অন্য একজন বলেন, একজন শিক্ষার্থী তার নগ্ন AI ছবি তৈরি করেছে। আবার কিছু ছেলে শিক্ষার্থী ধর্ষণ নিয়ে মজা করেছে।
NASUWT শিক্ষক ইউনিয়নের ৫,০০০ সদস্যের জরিপে দেখা যায় নারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নারী বিদ্বেষের হার বাড়ছে: ২০২৩: ১৭.৪%, ২০২৪: ১৯.৫%, ২০২৫: ২২.২% ও ২০২৬: ২৩.৪%।
Matt Wrack, NASUWT–এর সাধারণ সম্পাদক, এটিকে “টাইম বোমা” বলে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, শিক্ষক পেশার ৭০% নারী। যদি তারা শ্রেণিকক্ষে লিঙ্গভিত্তিক আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তবে এটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি আরও বলেন, এসব ছেলে ভবিষ্যতে স্বামী, বাবা ও কর্মক্ষেত্রের সহকর্মী হবে। তাই এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এছাড়া National Education Union (NEU) জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও অনলাইন ব্যক্তিত্ব এই প্রবণতা বাড়াচ্ছে।
Daniel Kebede বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম প্রতিদিন শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখাচ্ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট।”
নারী শিক্ষকরা জানান: শিক্ষার্থীরা তাদের উপেক্ষা করে, অশোভন মন্তব্য করে, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ করে। এছাড়াও যথেষ্ট সহায়তা পান না স্কুল বা অভিভাবকদের কাছ থেকে।
ইউকে ডিপার্টমেন্ট ফর এডুকেশন জানায়, নারী বিদ্বেষ জন্মগত নয়, শেখানো হয়। তাই শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মূল্যবোধ শেখাতে নতুন নির্দেশিকা দেওয়া হচ্ছে।






