সৈকতে ভেসে এসেছে শত শত জুতা

সাউথ ওয়েলসের উপকূলে হঠাৎ করেই এক অদ্ভুত রহস্যের জন্ম হয়েছে। দুটি সৈকতে ভেসে এসেছে শত শত জুতা—কালো চামড়ার তৈরি, দেখতে পুরোনো, এবং ধারণা করা হচ্ছে এগুলোর বয়স একশ বছরেরও বেশি।

গত বৃহস্পতিবার ল্যান্টউইট মেজর এবং অগমোর বাই দ্য সি নামের দুটি সৈকতে এই জুতাগুলো চোখে পড়ে। সে সময় একটি স্বেচ্ছাসেবী দল সৈকত পরিষ্কার করছিল। তারা আবিষ্কার করে—এক জায়গায় নয়, বরং বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে শত শত জুতা।

সৈকতে মাঝে মাঝে একটি-দুটি জুতা পাওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্ত এত বিপুল সংখ্যায় জুতা একসঙ্গে পাওয়া সবাইকে অবাক করে দেয়, এমনকি কিছুটা অস্বস্তিতেও ফেলে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যুক্ত একজন কর্মী বলেন, জুতাগুলো দেখেই প্রশ্ন জাগে—এগুলো কোথা থেকে এলো, কতদিন ধরে এখানে আছে।

জুতাগুলো ভালো করে পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলোর বেশিরভাগই পুরুষ ও শিশুদের। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত পুরোনো হওয়া সত্ত্বেও জুতাগুলোর অবস্থা বেশ ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের লবণাক্ত পানিই সম্ভবত চামড়াগুলোকে এতদিন ধরে সংরক্ষণ করে রেখেছে।

তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়—এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো এই জুতাগুলো কীভবে ২০২৫ সালে এসে সাউথ ওয়েলসের সৈকতে ভেসে উঠল?

সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে উঠে এসেছে কাছাকাছি একটি স্থানের নাম—টাসকার রক। এটি সৈকত থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ পাথুরে একটি এলাকা। এলাকাটি বহুদিন ধরেই ‘জাহাজের কবরস্থান’ হিসেবে পরিচিত, কারণ অতীতে এখানে বহু জাহাজ, দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, বহু বছর আগে টাসকার রক ছিল জাহাজ চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অনুমান করা হচ্ছে, কোনো এক সময়ে সেখানে একটি জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছিল, আর সেই জাহাজেই বহন করাठচ্ছিল এই জুতাগুলো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে এবং অবশেষে ঢেউয়ের টানে এসে পৌঁছেছে উপকূলে।

যদি এই ধারণা সত্যি হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই রহস্যময় জুতাগুলো আসলে কে তৈরি করেছিল? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ধারণা করছেন, এগুলো হয়তো উনিশ শতকের কোনো ইতালীয় জুতা প্রস্তুতকারকের তৈরি, যা একটি ডুবে যাওয়া জাহাজে করে পরিবহন করা হচ্ছিল।
তবে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। জুতাগুলোর উৎস এবং ইতিহাস জানার জন্য আরও তদন্ত প্রয়োজন।