পুতিনের সফর কিমের জন্য পুতিনের একটি উপহার ছিল

তাঁরা দুজন মিলে এক অদ্ভুত জুটি তৈরি করেছেন। একজনের মুখ হাস্যোজ্জ্বল ও নিটল। পাতলা ঠোঁটের অন্য মুখটি অনেক বেশি শীতল ও রূঢ়।

দুজনই স্বৈরশাসক। দুজনই নৃশংস। দুজনই নিজেদের খামখেয়ালি কাজকারবারের জন্য কাউকে কৈফিয়ত দেন না। দুজনই যুক্তরাষ্ট্রকে ১৯৪৫-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থার মোড়ল হিসেবে দেখেন এবং দুজনই যুক্তরাষ্ট্রকে খারিজ করে দিয়ে বিদ্যমান বিশ্ব ব্যবস্থাকে উল্টে ফেলার মিশন নিয়ে জীবন বাজি রেখেছেন। সর্বোপরি দুজনই পশ্চিমের দেশগুলো দ্বারা নিষিদ্ধ, বহিষ্কৃত এবং কিছুটা হলেও ভীত।

পিয়ংইয়ংয়ে এই ‘লরেল অ্যান্ড হার্ডি’ (হলিউড সিনেমার প্রাথমিক যুগের ব্রিটিশ-আমেরিকান কমেডি জুটি। এই জুটির একজন হলেন ইংরেজ অভিনেতা স্ট্যান লরেল এবং অন্যজন হলেন আমেরিকান অভিনেতা অলিভার হার্ডি) জুটির মধ্যে যে শীর্ষ সম্মেলন হয়ে গেল, তারপর সেসব ভয় প্রতীকী ও সারগর্ভ উভয় অর্থেই আরও তীব্র হতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার নাদুসনুদুস চেহারার নেতা কিম জং-উন ও রাশিয়ার চর্মসার গড়নের নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের একটি অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে। সেটি হলো, চীন থেকে ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত একটি শক্তিশালী পশ্চিমাবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী জোটে তাঁদের অবস্থান সুসংহত করা।

দুই বছর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক অভিযান শুরু হওয়ার আগে বেশির ভাগ বিশ্বনেতার মতো পুতিনও কিমের দিকে খুব কমই মনোযোগ দিয়েছেন। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সব বদলে গেল।

পুতিনের এই সফর কিমের জন্য পুতিনের একটি উপহার ছিল। আন্তর্জাতিক কূটনীতি সম্পর্কে কিমের ধারণা হলো, প্রভাব–প্রতিপত্তি অর্জনের জন্য হুমকি দিয়ে যেতে হবে (যে হুমকি দেওয়ার যথার্থ সামর্থ্য তাঁর নেই)। তাঁর সক্ষমতার দৌড় যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে (এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে) আঘাত করতে সক্ষম পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনসক্ষম দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পরীক্ষা চালানো এবং সীমিত পরিসরের পারমাণবিক বোমা বানানোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যন্ত।