আজম খান কেবল একটি নাম বা একজন শিল্পী বা পপসম্রাট নন; বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে, বাংলা গানের সামাজিক–রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আজম খান একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা কোনোভাবেই উপেক্ষিত হতে পারে না। তাঁর প্রয়াণের আজ ১০ বছর।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের একটি মন্তব্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি বাংলা গান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, বিশ শতকের বাংলা গানের ইতিহাস যাঁরা লিখবেন, তেহাত্তুর–চুয়াত্তর সালের একটা ঘটনার কথা তাঁরা কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারবেন না, বিশেষ করে একজন গায়কের কথা। তাঁর নাম আজম খান। কোনো অসাধারণ গায়ক নন আজম খান। কিন্তু এমন একধরনের গান তিনি সেকালে আমাদের শুনিয়েছিলেন, যে গান এ দেশে এর আগে কেউ শোনেনি।
গানগুলোর কথা, সুর, সঙ্গে ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র, পরিবেশনের রীতি—সবই ছিল আলাদা। আমি সেই আলাদা, ব্যতিক্রম, ভিন্নধর্মী আজম খানের কথা স্মরণ করতে চাই। সেদিনের সেই তারুণ্য আজও প্রজন্মের কাছে ইতিহাস হয়ে আছে। বাংলা গান বা সপ্তবর্ণা অনুষ্ঠানের সঙ্গে যখন আমি, ফেরদৌস ওয়াহিদ, ফিরোজ সাঁই, পিলু মমতাজসহ অনেকে যুক্ত হলাম, তখন বাংলা গানের দৃশ্যপট পাল্টে গেল। দেশের তরুণসমাজকে এই গান মাতিয়ে তুলল।






