সামাজিক মাধ্যমেও চলছে প্রতিবাদ অবিরত

বস্তুনিষ্ঠ, তথ্যনির্ভর, সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন নিয়ে যখন সাংবাদিকেরা প্রশ্নবিদ্ধ, তাঁদের দায়িত্ব ও কর্মসততা নিয়ে কথা হচ্ছে সুশীল সমাজে, টক শোতে, সামাজিক মাধ্যমে, তথা জনমনেও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে; ঠিক এ রকম সময়ে একজন সাহসিকা, একজন নারী এগিয়ে এসেছিলেন তাঁর সততার স্বাক্ষর রাখতে। ভয়ের সংস্কৃতিকে বুড়ো আঙুল না দেখাতে পেরে কেউ কেউ যখন হতাশায় এ পেশাই ছেড়ে দেন, কেউ কেউ আপস-রফা করেন পেটের দায়ে, প্রাণভয়ে, কিংবা সুবিধার মই পেতে, তখন রোজিনা ইসলামেরা আমাদের সামনে থাকেন পিদিমের আলো হাতে নিয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে। আমাদের সামনে সত্য ও সুন্দরের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ন্যায়ের সঙ্গে, আপসহীনতার সঙ্গে। কিন্তু রাষ্ট্র তো এ দুর্বিনীত যোদ্ধাকে স্বীকৃতি দেবে না! পুরস্কৃত করবে না তাঁর কাজকে। বরং টুঁটি টিপে ধরে তাঁর কণ্ঠরোধ করে দেবে চিরতরে।
যে সমাজ আপাদমস্তক দুর্নীতির আস্তিন গায়ে জড়িয়ে মিথ্যের সঙ্গে সখ্য গড়ে, আইনের অপব্যবহারই যেখানে আইনানুগ কথা বলে, রক্ষক যেখানে ভক্ষক হয়, সেই সমাজে সাংবাদিক, ডাক্তার, শিক্ষক, আইনজীবী, যেকোনো পেশার মানুষ কিংবা সাধারণ জনগণ কেউই নিরাপদ নন। কেউই ভয়ের আবর্তের বাইরে নন; প্রশাসন-দুর্নীতিবাজ আমলা আর অবৈধ ক্ষমতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত—এ ত্রয়ীতত্ত্বের উইন উইন খেলার শিকার হন তখন সত্যানুসন্ধানীরা। আমরা যদি সাংবাদিক প্রবীর শিকদারের কথা ভুলে না গিয়ে থাকি, তবে এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

প্রিয় পাঠক, প্রসঙ্গ রোজিনা ইসলাম! প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে গত সোমবার সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি কক্ষে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে যেকোনো মানুষই বলবেন এ কাজ নিঃসন্দেহে নিন্দার্হ। অনেকেই সোচ্চার হয়েছেন এর বিরুদ্ধে, সামাজিক মাধ্যমেও চলছে প্রতিবাদ অবিরত। রোজিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রাষ্ট্রীয় গোপন নথির ছবি তুলেছেন এবং সেগুলো সরিয়ে নিতে চেয়েছেন। এযাবৎ আশার কথা হলো যে তাঁর রিমান্ডের আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ ঘা, এখন দেখছি সচিবালয় ছুঁলে বাহাত্তর ঘা।