ঢিলেঢালা হওয়ায় গরমের জন্য আদর্শ এক পোশাক কাফতান। সমুদ্রপাড়ের কড়া রোদ হোক কিংবা বাড়ির ভেতরের গরম, কাফতানেই আরাম। আরামদায়ক কাট আর নকশার জন্য পাশ্চাত্যে মূলত ঘরের বাইরেই পরা হয় কাফতান। আমাদের দেশে ঘরে পরার পোশাক হিসেবেই পরিচিত ছিল বেশি।যেকোনো শারীরিক গঠনে মানিয়ে যাওয়ায় এখন আমাদের দেশেও এটি বাইরের পোশাক হিসেবে সমাদর পাচ্ছে। কাফতানের হাতায় ও গঠনে দেখা যাচ্ছে প্রজাপতি, বাদুড়ের পাখনা, অফ শোল্ডার কওল, ড্রেপ কাফতান, ড্রেপ কওল কাফতান, পুল ওভার কাফতান, কেপ কাফতান, ওপেন শোল্ডার কাফতান ইত্যাদি নতুন নতুন কাট।
কাফতানের মজার কিছু বিষয়
১. কাফতান প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় উদ্ভূত হয়েছে বলে মনে করা হয়। পরে অটোমান সাম্রাজ্যে দ্রুত এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। মরক্কোর বিচারকেরা যখন কাফতান পরা শুরু করেন, তখন এটি ক্ষমতার প্রতীক হয়ে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে ইতিহাসজুড়ে কমবেশি প্রতিটি সংস্কৃতির ঢিলেঢালা কাফতান কাটের মতো পোশাকের সংস্করণ রয়েছে। অটোমান সুলতানরা ১২ থেকে ২০ শতকের গোড়ার দিকে তাঁদের কর্তৃত্ব ও সামাজিক অবস্থান তুলে ধরতে দামি কাপড় দিয়ে তৈরি চমৎকার কাফতান পরতেন। রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে প্রায়ই সেনাপতি ও দর্শনার্থীদের সুন্দর কাফতান উপহার দিতেন সুলতানরা।২. ১৯৫০ ও ১৯৬০ দশকের গোড়ার দিকে পশ্চিমেও কাফতানের কদর বেড়ে যায়। ক্রিশ্চিয়ান ডিওর ও ব্যালেন্সিয়াগার মতো ব্র্যান্ডগুলোর ফ্যাশন শোতে এই পোশাক প্রদর্শিত হতে থাকে। পাশ্চাত্যের ব্র্যান্ডগুলো মূলত সিল্কের ওপর হাতের কাজ যুক্ত করে। ১৯৬০ দশকের শেষ দিকে ফ্যাশন আর সংগীত এক হয়ে ওঠে। ‘ফ্রি লাভ অ্যান্ড রক এন রোল’ প্রজন্ম কাফতানকে ভালোবাসতে শুরু করে। সারা দিনই তারা কাফতান পরে থাকত। এর আগে মূলত বাড়ির দাওয়াতে ধনী গৃহিণীরা কাফতানে সাজতেন। প্রথম দিকে ভারী সিল্কের কাপড় দিয়ে ডিজাইন করা হতো কাফতান। ষাটের দশকের শেষে কাফতানগুলো ফিনফিনে কাপড় দিয়ে বানানো শুরু হয়।






