যুক্তরাজ্যে সমকামী জীবনযাপন করার কারণে নিজ দেশ থেকে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় মুসলিম সমাজসহ দেশের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলী হোসেন। এসব হুমকির কারণে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং তার জীবন এখন গভীর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও মানবিক জীবনযাপন করছে

স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তবে নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশে তার ফেরা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। কারণ, দেশে ফিরলেই তার জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মানুষ মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করবে—এটি মানবিকতার স্বাভাবিক এবং চিরন্তন সত্য। ভালোবাসা সবসময়ই পবিত্র। একজন ব্যক্তি কাকে ভালোবাসবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের অংশ। কিন্তু পুরুষে-পুরুষে ভালোবাসা, যা সমকামিতা হিসেবে পরিচিত, পশ্চিমা বিশ্বের বহু দেশে আইনগত স্বীকৃতি পেলেও বাংলাদেশে তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সমকামিতা শুধু আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ নয়, বরং সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যাত। ফলে দেশের সমকামী ব্যক্তিরা চরম ভয়ের মধ্যে জীবনযাপন করেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বাধ্য হন।
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, সামাজিক ঘৃণা, নিপীড়ন এবং সহিংসতার কারণে বাংলাদেশের অনেক সমকামী ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অতীতে সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনার অভিযোগ থাকলেও সেগুলোর অনেকগুলোর বিচার আজও সম্পন্ন হয়নি। এমনকি অনেক ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই কঠিন বাস্তবতার কারণে দেশের অনেক সমকামী ব্যক্তি নিরাপত্তা ও স্বাধীন জীবনের খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। আলী হোসেনও তাদেরই একজন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে তার একজন সমকামী সজ্ঞীকে নিয়ে এক ধরনের নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন এবং বিভিন্ন LGBTQ সংগঠনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন।
তার এই জীবনযাপনের কারণে দেশে তার পরিবার চরম সামাজিক চাপ, অবহেলা এবং অপমানের শিকার হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি এতটাই তীব্র যে, তার নিজের পরিবারও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে। ফলে আলী হোসেন আজ নিজ দেশ থেকে শুধু নয়, নিজের পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন এক নিঃসঙ্গ জীবনে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয়ভাবে অনেকেই তাকে সমাজ ও ধর্মবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। ফলে তার নিজের এলাকায় ফিরে যাওয়ার সব পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে জামায়াতের নেতা এবং জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী লোকমান হোসেন, দক্ষিণ সুরমা তালামীজের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান এবং দক্ষিণ সুরমা বিএনপি’র বর্তমান সভাপতি আনিসুল হক টিপু জানিয়েছেন,
“আলী হোসেনের মতো একজন সমকামী ব্যক্তি আমাদের ইসলামিক সমাজ ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে অবমাননা করে বাংলাদেশে ফিরলে তাকে সামাজিক, ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইনের মুখোমুখি হতেই হবে, এমনকি মৃ্ত্যুদন্ড হতে পারে।” অন্যদিকে, আলী হোসেনের কণ্ঠে ভেসে ওঠে বেঁচে থাকার আকুতি। তিনি বলেন,
“আমি শুধু বাঁচতে চাই। একজন মানুষ হিসেবে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে চাই, এই সুন্দর পৃথিবীটা উপভোগ করতে চাই। কিন্তু আমার দেশে আমার সেই অধিকার নেই বলেই আমাকে দূরে থাকতে হচ্ছে। আজ আমি শুধু দেশ থেকে নয়, আমার নিজের পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন।