চট্রগ্রামে প্রকাশ্যে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘গুপ্ত হত্যা করে কেউ পার পাবে না। যারা হত্যা করছে তারা এবং তাদের প্রভু যেই হোক না কেন তাদের আমরা রেহাই দেবো না। যারা পরিবারের ক্ষতি করছে তাদের হিসাব পাই পাই করে নেবো। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য অ্যাডভোকেট ফজিলাতুননেসা বাপ্পীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিতভাবে যারা গুপ্তহত্যা করে তারা দেশের ক্ষতি করছে। মানুষের ক্ষতি করছে। শেখ হাসিনা বলেন, গুপ্ত হত্যাকারীরা মসজিদের ইমাম, গির্জা, পেগোডায় ধর্মযাজকদের হত্যা করছে। এমনকি শিক্ষককেও হত্যা করেছে। সম্প্রতি একজন পুলিশ অফিসারে স্ত্রীকে হত্যা করেছে, যা আগে কখনো দেখিনি। যে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এবং তাদের হত্যাকান্ডের প্যাটার্ণটা (ধরণ) একই রকম। তারা ঠিক একই জায়গায় কোপ দেয়। একই জায়গায় গুলি করে। একই জায়গায় মারে। তারা একই কায়দায় এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। ইতোমধ্যে এধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা অনেকগুলি ঘটনার আসামী ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এবারও যারা ঘটনা ঘটিয়েছি অবশ্যই তারা গ্রেপ্তার হবে এতে কোন সন্দেহ নাই। হত্যাকারীদের প্রতি প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে তারা পরিবারের উপর হাত দিতে শুরু করেছে। তারা কি ভুলে যায় তাদেরও পরিবার আছে। তাদের বাবা-মা আছে। তাদেরও ভাইবোন স্ত্রী আছে। একদিকে যদি আঘাত আসে তাহলে তো অন্যদিকেও তো একই আঘাত আসতে পারে। এটা কি তারা ভুলে যাচ্ছে! যারা এই ধরনের গুপ্তহত্যা এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত তাদের পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর থেকে যেন তারা তাদেরকে পরিবারের সদস্যদের বিরত থাকতে বলে। আজকে যদি তারা এভাবে অন্য পরিবারগুলোর উপর হাত দিতে শুরু করে তাহলে কিন্তু কারও হাতই থেমে থাকবে না এবং জনগণকে থামিয়ে রাখতে পারবে না। আর বাংলাদেশে গুপ্তহত্যা করে তারা যদি মনে দেশ একেবারে উল্টে দেবে তা কিন্তু তারা পারবে না। হত্যাকারীরা ঠিকই ধরা পড়বে। হত্যাকারীর ঠিকই সাজা হবে এবং সর্বোচ্চ সাজা এই হত্যাকারীরা ভোগ করবে। তিনি তাদের উদ্দেশে আরও বলেন, আমি তাদের এটাও তাদের বলতে চাই। ১৯৭১ সালে এদেশে যারা গণহত্যা চালিয়েছিল। আমরা কিন্তু ৪৪ বছর পরে এসেও তাদের বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের ফাঁসি হয়েছে। কারণ খুনের মামলা তামাদি হয় না কখনো। সেই যুদ্ধাপরাধীদের কিন্তু বিচার হয়েছে। জাতির পিতাকে যারা হত্যা করেছিল। যাদের ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছিল। যারা গর্ব করে বলতো তাদের বিচার কে করবে। আল্ল¬াহর রহমতে আমরা সেই খুনিদেরও বিচার করেছি এবং রায়ও কার্যকর হয়েছে। কাজেই আজকে যারা গুপ্তহত্যায় লিপ্ত।তারা যদি মনে করে গুপ্তহত্যা করে তারা পার পেয়ে যাবে, ইনশাল্লাহ তারা পার পেয়ে যাবে না। তারা পার পাবে না। তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই হবে। তাদের প্রভূ যারাই হোক। তাদেরকেও আমরা রেহাই দেবো না। বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতে আগুন সন্ত্রাস ও পেট্রোল বোমার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, এদের মানুষ পুড়িয়ে মারাটা জনগণ গ্রহণ করেনি। তারা এর প্রতিরোধ শুরু করে। জনগণের মধ্য থেকেই প্রতিরোধ আসে। ২০১৫ সালে সেই জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাস এদেশে মানুষ পোড়ানোর এক হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আন্দোলনের নাম করে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়। যখন এটা আমরা এবং দেশবাসী প্রতিবাদ করি যখন গনরোষ সৃষ্টি হয়। তখন এরা ক্ষান্ত দিয়ে বিরত হয়। কিন্তু এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, গুপ্তহত্যার পথ বেঁচে নেয়া হয়েছে। পুলিশের কাজই হচ্ছে, আইনশৃংখলা রক্ষা করা অপরাধীদের ধরা। বাংলাদেশে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড যারা ঘটাতে চেয়েছে এই পুলিশ অফিসার তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে। বোমা বানানোর সরঞ্জামসহ বহু কিছু উদ্ধার করেছে। এরা তার পরিবারের উপর হাত দিয়েছে।






