ভাইয়াকে ছাড়া প্রথম ঈদ

ঈদের ছুটিতে আমি আর ছোট ভাই আবদুল্লাহ গ্রামের বাড়ি যেতে চাইতাম। গ্রামের বাড়ি বলতে পটুয়াখালীর বাউফলে নানাবাড়ি। দাদাবাড়িতে আমাদের কেউ নেই, কিছুই নেই। আমরা তিন ভাই বড় হয়েছি এ বাড়িতেই। মা-বাবার কবর এখানেই। তাই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছাটা তীব্র হতো। কিন্তু ভাইয়া (রাজীব হোসেন) চাইতেন ঢাকাতেই আমরা ঈদ করি, বাড়িতে যেতে হলেই তো বাড়তি খরচ। শেষমেশ আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে ভাইয়া ঠিকই একসময় টিকিট কাটতেন, তুলে দিতেন লঞ্চে। কিন্তু তিনি যেতেন না, এতে অন্তত কিছুটা খরচ তো বাঁচল!

আমার ভীষণ ইচ্ছা ছিল তিন ভাই মিলে কোনো এক ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাব। যেতে যেতে অনেক আনন্দ করব। বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার কবরের পাশে দাঁড়াব। আমাদের জীবনে সেই যাত্রা এল গত ১৭ এপ্রিল। তবে তা ছুটিতে নয়, তিন ভাই একসঙ্গে নয়—কাফনে মোড়ানো নিথর ভাইয়া অ্যাম্বুলেন্সে শোয়া, আমরা অন্য আরেকটা গাড়িতে। এমন যাত্রা আমরা চাইনি। মানুষের জীবনে এমন কেন হয়? ছোটবেলা থেকে না পাওয়া জীবন আমাদের। এই না পাওয়া জীবনে ভাইয়াই ছিলেন সবকিছু।

গত ঈদে বাড়ি যাইনি, বড় খালার বাসায় ছিলাম। প্রকৃতি মানুষকে অনেক কিছু শেখায়। আমরা শিখেছি—অনেক ইচ্ছা চেপে যেতে হয়। ভাইয়ার পরিশ্রমী জীবন আর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা আমরা বুঝতে শিখেছিলাম। পার্টটাইম চাকরি, টিউশনি, নিজের পড়াশোনা—প্রতিটা দিন এই চক্রেই কাটত তাঁর। তবু বন্ধুদের সঙ্গে হাসিমুখে মিশতেন, আর আমরা সেই হাসিমুখের আড়ালে দেখতে পেতাম জমে থাকা কষ্টের মেঘ।

LEAVE A REPLY