বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান শিল্পীদের চিত্রকর্ম একসঙ্গে দেখতে হলে যেতে হয় নামকরা বিদেশি গ্যালারি বা জাদুঘরে। তবে বাংলাদেশের অন্যতম সংগ্রাহক বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়েরের কাছেও রয়েছে দুর্লভ কিছু ছবি। যে ছবিগুলো কালেভাদ্রে বাড়ির বাইরে বের করেন তিনি। উপমহাদেশের খ্যাতিমান ১৩ জন শিল্পীর সে রকম ৪৫টি দুর্লভ চিত্রকর্ম গ্যালারিতে উপস্থাপন করেছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।
গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে চিত্রকলা প্রদর্শনী ‘ব্রেকিং গ্রাউন্ড: আধুনিক চিত্রকলার উত্তরণ’। সন্ধ্যায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন।
রীভা গাঙ্গুলী বলেন, ‘শুরুর দিকে বেঙ্গলের আয়োজন করা কর্মশালাগুলোতে আমি এসেছিলাম। বাংলাদেশে কর্মরত থাকাকালে হাইকমিশনের উদ্যোগে নিজেরাও কিছু প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলাম আমরা। সেসবের কিউরেশন করতেন সুবীর চৌধুরী। আজ তিনি নেই, তাঁর ছবিটা দেখে মন খারাপ হয়ে গেল। তাঁর নামাঙ্কিত গ্যালারিতে আজ প্রদর্শনী হচ্ছে। এতে দুই বাংলার ছবিই আছে। এভাবে দুই বাংলাকে তারা কাছাকাছি আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সংগঠনের কাজ অনেকেই করে, কিন্তু ভালোবেসে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন কাজ, যেটা বেঙ্গল করছে।’
নিসার হোসেন বলেন, ‘আমাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এতটা পরিকল্পিতভাবে চিত্রকর্ম সংগ্রহ করেনি, যেভাবে বেঙ্গল করেছে। এখানে কেবল ছবি দেখাই নয়, কিছু শেখার সুযোগ আছে। কেবল শিল্পী বা শিল্পের শিক্ষার্থী নয়, সাধারণ শিল্পপ্রেমীরাও এ প্রদর্শনী দেখে শিখতে পারবেন। প্রদর্শনীগুলো সেভাবেই কিউরেট করা হয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে এভাবেই চিত্রকর্ম প্রদর্শন করা হয়। আমাদের মতো জনবহুল দেশে এভাবে কাজটি করা কঠিন।’
ত্রিশের দশক থেকে পরবর্তী সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিত্রকরদের শিল্পকর্ম এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আধুনিক চিত্রকলার রূপরেখা নির্মাণের একটি গতিপথ সন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়েরের ব্যক্তিগত সংগ্রহের মধ্যে এই অনুসন্ধান সীমাবদ্ধ। আধুনিক চিত্রকলাচর্চার অন্যতম পুরোধা চিত্রকর গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, যামিনী রায়, রামকিঙ্কর বেইজের পাশাপাশি প্রদর্শনীতে আছে বাংলাদেশে আধুনিক শিল্পকলার জনক শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, এস এম সুলতান ও কামরুল হাসানের চিত্রকর্ম। আরও আছে সফিউদ্দীন আহমেদ, রশিদ চৌধুরী, মোহাম্মদ কিবরিয়া, আমিনুল ইসলাম, মুর্তজা বশীর, কাইয়ুম চৌধুরী, কাজী আবদুল বাসেতের মতো শিল্পীর চিত্রকর্ম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য নওশীন খায়ের। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, দুর্লভ এ ছবির কোনো কোনোটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলোকে কীভাবে ধরে রাখা যায়, গবেষণার মাধ্যমে সেটা বের করার আহ্বান জানান তিনি।
বেঙ্গল শিল্পালয়ের সুবীর চৌধুরী প্রদর্শনশালায় এ প্রদর্শনী চলবে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। রোববার বাদে প্রতিদিন বেলা একটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ছবিগুলো দেখে আসা যাবে।






