প্রকৃত স্বাধীনতা রক্ষায় সদা সচেতন ও সক্রিয়তার প্রয়োজনীয়তা

বাঙ্গলার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মনে রাখার জরুরি কথা হলো, স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে, তার প্রকৃত তাৎপর্য, প্রকৃত ও কৃত্রিম স্বাধীনতা, প্রকৃত এবং কৃত্রিম জাতীয়তার পার্থক্য সম্পর্কে টন টনে সচেতনতা বজায় রেখে, প্রকৃত স্বাধীনতা রক্ষায় সদা সচেতন ও সক্রিয়তার প্রয়োজনীয়তা যেন মুহূর্তের জন্য হারিয়ে না যায়, বিস্মৃত না হয়।প্রথম স্মর্তব্য হলো, বাঙ্গলা কোনো নবজাত জাতি নয়, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধই তার একমাত্র স্বাধীনতা-সংগ্রাম নয়।১৩৪২ সনে প্রথম বাঙ্গলা নামে স্বাধীন-সার্বভৌম জাতি রাষ্ট্র হিসেবে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর হাজারো বছরের ইতিহাসে বারংবারই বিভিন্ন প্রেক্ষিতে বাঙ্গলার হাজার বছরের স্বাধীনতার পুনর্ব্যক্তিমূলক ঘোষণা উচ্চারিত হয়। বিভিন্ন আঙ্গিকে, বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন পটভূমিকায়, বিভিন্ন প্রেক্ষিতে। আর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই যে তা কার্যকর ও স্বীকৃত রূপে তা অর্জিত হয়ে যায়, তা’ও নয়। এরই ভেতর কোনো একবারের ঘোষণার কোনো একটি বিশেষ দিন-তারিখকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সে স্বাধীনতার স্মারক হিসেবে ধরে নিয়ে উদযাপন করলে, এমন কি সাংবিধানিকভাবেও, তাতে খুব বড় যে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়, এমন নয়। যতক্ষণ না বা কোরান কেতাবের মতো অকাট্য মনে করে নিয়ে তাকে ভিতটি করে জাতীয় জীবনের মৌলিক নীতিনির্ধারণমূলক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি করে নেওয়া হয়। খোদ মহাভারতের বহু সংস্করণ রয়েছে।

প্রথম স্বাধীনতা ১৩৪২

হাজার বছরেরও পূর্বে বাঙ্গলার স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভাব হয়, ১৩৪২ সনের আশেপাশে, কোনো এক মাসে, কোনো এক দিন তার প্রথম অভ্যুদয়, বাঙ্গলা নামে ঐক্যবদ্ধ এমন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র হিসেবে। তার প্রথম সার্বভৌম শাসক, সেকালের প্রচলিত পরিভাষায়, ‘সুলতান’, সোনারগাঁয়ের শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ-এর নেতৃত্বে। তা যে ঠিক কখন, কোন দিন-তারিখে হয়, তা আজ ঠিক করে বলাও যায় না। আর তা’ও হয়েছিল হঠাৎ করে এক দিনে নয়। তার পূর্বের কয়েক শতাব্দী ধরে, বহু প্রাণ দান ও ত্যাগের প্রক্রিয়ার ফলশ্রুতিতে। বহু শতাব্দীর আর অনার্য রক্তক্ষয়ী সংঘাতে, আগ্রাসী আর্যের প্রতিপক্ষে অনার্য ‘বঙ্গ’-সন্তান, ‘বঙ্গের আল’, তথা ‘বঙ্গাল’ বা ‘বাঙ্গলা’-এর মুক্তিযুদ্ধের সফল সমাপ্তিতে।

তারপর থেকে, স্বাধীন জাতি হিসেবে বাঙ্গলার স্বাধীনতার ঘোষণা ও তার কার্যকর ও স্বীকৃত রূপে অর্জন হয়েছে বেশ কয়েকবারই। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষিত ও পটভূমিকায় হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর পূর্বের প্রায় হাজার বছরে যে সবসময় তা হয়েছে তার সঠিক ঠিক দিন-তারিখ ত’ আজ আর নিশ্চিত করার খুব একটা উপায় নেই। কিন্তু বিংশ শতাব্দীতে শুরু করে, আধুনিককালে তার ঘটনাগুলোর দিন-তারিখ এখনো বিস্মৃত হয়নি।