পাল্টে যাচ্ছে, কিন্তু উল্টে যাচ্ছে না

সব কেমন ম্যাজিকের মতো রোজ পাল্টে যাচ্ছে। কাল যেটাকে জানতাম আধুনিক, আজ সেটাই পুরোনো। হাতে পাওয়া নতুন মোবাইল ফোনটাকে গত তিন মাসেও ঠিক পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি, এরই মধ্যে শুনি সেটটা নাকি পুরোনো হয়ে গেছে, নতুন মডেল চলে এসেছে। আমাদের মতো চল্লিশোর্ধ্ব মানুষকে নিয়ে বড্ড মুশকিল। বাড়িতে ৬০ ইঞ্চি ফ্ল্যাট এলইডি টিভি কিনে এনে কিছুদিন পরই বুঝতে পারলাম, আমার ১৪ বছরের ছেলের কাছে ১২ ইঞ্চি ট্যাবের স্ক্রিনই যথেষ্ট, ওটাতেই নেটফ্লিক্স চলছে। বড় ফ্ল্যাট টিভিরও দরকার নেই, কেব্‌ল চ্যানেলেরও দরকার নেই—তাই একসঙ্গে পরিবারের সবাই মিলে বসে এইসব দিনরাত্রি দেখাও নেই।
শুধু কি তাই, ছেলের বয়স ১৫-১৬ হলেই বাবাদের কাজ ছিল শেভ কীভাবে করতে হয় ছেলেকে দেখিয়ে দেওয়া, আর তাতেই ‘ভয়ংকর’ বাবা আস্তে আস্তে বন্ধু হয়ে উঠবেন শেভ করা শেখাতে শেখাতে। আর এখন ১৬ বছরের ছেলেটি ইউটিউব দেখেই শেভ করা শিখে নিচ্ছে। তাই বাড়ির বাইরে কোথাও ছেলেমেয়েরা উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেললে মুরব্বিরা চাইলে ‘বাড়িতে কিছু শেখায়নি নাকি?’ প্রশ্ন পাল্টে জিজ্ঞেস করতে পারেন, ‘ইউটিউব কিছু শেখায়নি নাকি?’

LEAVE A REPLY