‘দাম বাড়েনি শুধু মঞ্চনাটকের টিকিটের’

বটতলা না রেপার্টরি, না পুরোপুরি প্রথাগত দল। এমন ভিন্নতার পেছনের কারণ কী ছিল?
আমাদের ভাবনা ছিল ‘বটতলা’ হবে একটা উন্মুক্ত জায়গা। যে-কেউ এখানে এসে কাজ করতে পারবে। এখনো অন্য দলের ছেলেমেয়েরা এখানে কাজ করতে আসে। ভালো একজন শিল্পী আমাদের এখানে এসে কাজ করলে আমরা সমৃদ্ধ হই। প্রতিটি দলের আলাদা সংস্কৃতি রয়েছে। প্রতিটি দলের মহড়া, নাটক শুরু করা এবং শেষ করার রীতি ভিন্ন। আমরা সেগুলো থেকেও শিখি। ধরা যাক, নাগরিক বা আরণ্যক দলের কেউ আমাদের সঙ্গে কাজ করতে এসেছে। আলী যাকের ভাই ও মামুনুর রশীদ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁদের। সেই অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করলে আমাদের সুবিধা হয়। এটা একধরনের বিনিময়। আমাদের ইচ্ছে ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক নাটকগুলো প্রযোজনা করব। কিন্তু তেমন সাড়া পাইনি।

গত এক দশকে মঞ্চ বদলে গেছে। অনেকে বলেন, এখন নাটকগুলো দর্শককে তেমন টানে না। সমাজের ওপর নাটকের তেমন প্রভাব পড়ছে না।
নাটকের কনটেন্ট যদি দর্শকের সঙ্গে কমিউনিকেট করতে পারে, দর্শক যদি সেটাকে নিজের কনটেন্ট মনে করে, সেই নাটকে দর্শকের অভাব হয় না। ঢাকায় এমন ঘটনাও ঘটেছে যে নাটকের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দেড় বছর আমাদের হল দেয়নি। সে সময় মহিলা সমিতির মঞ্চ নতুন করে খুলেছে, সেখানে লোক যায় না। এ রকম পরিস্থিতিতে সেখানে প্রদর্শনী করেছি আমরা। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ‘ক্র্যাচের কর্নেল’ নাটকের ৩৬টি প্রদর্শনীর প্রতিটিই ছিল হাউসফুল। এর কারণ, নাটকটির কনটেন্ট মানুষকে ভাবিয়েছে। আসলে দর্শকই দর্শক আনে। একটি নাটক একজন দর্শকের মনে গেঁথে গেলে তিনিই অন্য আরও কজনকে নিয়ে আসেন। আমাদের ‘খনা’ নাটকের ক্ষেত্রেও সে রকম দেখেছি। একজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, আগের প্রদর্শনীটি তিনি একা দেখেছিলেন। পরে স্ত্রী, ছেলে আর ছেলের বউকে নিয়ে এসেছেন। গত ১০ বছরে শিল্পকলায় লম্বা লাইন ধরে নাটকের টিকিট কিনতে দেখা গেছে। টিকিট কেনাকে কেন্দ্র করে মারামারিও হয়েছে। টিকিট না পেয়ে দর্শক চিৎকার-চেঁচামেচি করেছে, হাহুতাশ করেছে। তবে কথা হচ্ছে, শিল্পকলায় প্রতিদিন চারটি নাটক হয়। চারটি নাটকই ভালো করার ক্ষমতা আমাদের নেই। যেগুলো ভালো হয়, সেগুলোয় ঠিকই দর্শক হয়।

ঢাকায় অনেক দল। নাটকের মানুষ হিসেবে গড়ে মূল্যায়ন করতে বললে সেই দলগুলোর নাটক নিয়ে কী বলবেন?
প্রতিদিনই নতুন নতুন দর্শক তৈরি হচ্ছে। আমরা একসময় মহাভারতের কনটেন্ট নিয়ে কাজ করেছি। মাঝে বিদেশি নাটক নিয়ে কাজ করা হয়েছে। এখন নতুন নতুন সব এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে। নির্দেশকেরা সব রকম ফরমকে ভাঙার চেষ্টা করছেন, নতুন ফরম তৈরির চেষ্টা করছেন। গল্পকে ভিন্নভাবে বলা যায় কি না, সেই চেষ্টা করছেন। নন-লিনিয়ার নাটক আগে প্রায় দেখাই যেত না, এখন অনেক হচ্ছে। সব মিলিয়ে অনেক নতুন কাজ হচ্ছে। তবে মঞ্চের খুব বেশি প্রচার নেই। আরও একটি সংকট হচ্ছে, টিকিটের কম দাম। গত ১০ বছরে সবকিছুর দাম বেড়েছে, শুধু মঞ্চের টিকিটের দাম বাড়েনি। সিনেমা দেখলে ৩০০ টাকা খরচ হয়, আর মঞ্চের টিকিটের দাম এখনো ১০০ টাকাই রয়ে গেছে। টিকিটের দাম বাড়াতে হবে। মঞ্চে অনেক কারিগরি ব্যাপার আছে। এখন নতুন অনেক লাইট এসেছে, সেগুলো খরচসাপেক্ষ। ইফেক্ট মেশিন ভাড়া করতে হয়, যা অনেক মিলনায়তনে থাকে না। অনেক সময় মাল্টি-প্রজেক্টর নিয়ে কাজ করতে হয়। এসব একটা ব্যাপক খরচের ব্যাপার। কিছু দল আছে, তাঁদের নাটকে হয়তো কোনো সেট নেই। পুরোনো দিনের মতো অভিনেতা একা মঞ্চে দাঁড়িয়ে সংলাপ বলছেন। সেখানেও অভিনয়ের অনেক সুযোগ রয়েছে। অনেকে আবার বিশাল সেট নিয়ে কাজ করে।

LEAVE A REPLY