ডাকসুতেও ‘হুদা কমিশন’!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষণে ক্ষণে দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে। আজ ১৮টি আবাসিক হলে ভোট গ্রহণ করা হয়। প্রথমেই অঘটন ঘটে কুয়েত মৈত্রী হলে। সেখানে একটি ব্যালট বাক্সে সিল মারা ব্যালট পেপার পাওয়া যায়। অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হলের প্রাধ্যক্ষ শবনম জাহানকে অপসারণ করে নতুন প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ করে মাহবুবা নাসরিনকে। মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরু হয় বেলা ১১টা ১০ মিনিটে।

এদিকে ব্যালট বাক্স নিয়ে গোল বাধে রোকেয়া হলেও। এই হলের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ৯টি ব্যালট বাক্সের মধ্যে সকালে ৬টি খোলা হলেও পাশের কক্ষে রাখা হয় বাকি তিনটি। হলের ছাত্রীরা এটি জানতে পেরে ব্যালট বাক্স ভেঙে ফেলেন এবং তিনটি বাক্সে প্রচুরসংখ্যক ব্যালট পেপার পাওয়া যায়, যদিও সেগুলো সিল মারা ছিল না। এরপর কর্তৃপক্ষ বেলা তিনটা থেকে রোকেয়া হলে ফের ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগেই বেলা ১টায় ছাত্রলীগ ছাড়া সব ছাত্রসংগঠনই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। তারও আগে ছাত্রলীগের কর্মীরা রোকেয়া হলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ভিপি প্রার্থী নুরুল হককে এবং প্রগতিশীল ছাত্র জোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দীকে মারধর করেন। এ নিয়েও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী ছাত্র সংগঠন থেকে স্লোগান ওঠে, ‘যে ভিসি ছাত্রলীগের, সে ভিসি মানি না।’

মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে ডাকসু নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১১ মার্চ। ছবি: দীপু মালাকারমধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে ডাকসু নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১১ মার্চ। ছবি: দীপু মালাকারসকাল ১০টায় শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাঁ-পাশের ফুলের দোকানগুলো দেখে মায়া হলো। বেশির ভাগ দোকানের ঝাঁপ বন্ধ। ক্রেতা নেই। ডাকসু নির্বাচনের কারণে ক্যাম্পাসে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ। কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার বরাবর সড়কে পুলিশের ব্যারিকেড। সবাইকে হেঁটে ক্যাম্পাসে ঢুকতে হচ্ছে পরিচয়পত্র দেখিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবক ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো যানবাহনেরও প্রবেশ নিষেধ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ পার হয়ে মধুর ক্যানটিনে যেতে দেখলাম, কয়েকজন শিক্ষার্থী পশ্চিম দিক থেকে আসছেন। জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কোন হলের ছাত্র? একজন বললেন, মুহসীন হলের ভোটার। ভোট দিয়েছেন? তাঁর উত্তর, অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও ভোট দিতে পারেননি, ‘ছাত্রলীগ তাদের সমর্থকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। কীভাবে ভোট দেব।’

LEAVE A REPLY