এক ছাত্রীকে ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য বহিষ্কার করেছিল লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়। ওই ছাত্রী দাবি করেন, তাকে সাইবারবুলিংয়ের মাধ্যমে ফাঁসানো হয়েছে। একটি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া ভুল প্রমাণিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত বাতিল করলেও ওই ছাত্রী এখন ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। তিনি ৯৮,০০০ পাউন্ড দাবি করেছেন।
সারা এমবাবিজি (ছদ্মনাম) নামের ওই ছাত্রীকে ২০২৪ সালে রিচমন্ড আমেরিকান ইউনিভার্সিটি লন্ডন থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ইসরায়েল-গাজা সংঘাত নিয়ে বিদ্বেষমূলক পোস্ট করেছেন। সারা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, অ্যাকাউন্টটি তার নয় এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তার নাম ব্যবহার করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে তার এই দাবি অগ্রাহ্য করে। এরপর সারা অফিস অব দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাডজুডিকেটর (OIA)-এর কাছে আপিল করেন। OIA তাদের তদন্তে দেখতে পায় যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনও সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেয়নি এবং সারার জমা দেয়া ডিজিটাল প্রমাণগুলোও সঠিকভাবে পরীক্ষা করে দেখেনি।
OIA-এর নির্দেশের পর বিশ্ববিদ্যালয় একটি নতুন প্যানেল গঠন করে। এই প্যানেল তাদের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বাতিল করে এবং স্বীকার করে যে, ওই টুইটগুলো সারার লেখা এমন কোনও প্রমাণ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে পুনরায় ভর্তি হওয়ার এবং কিছু ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তাব দেয়।
তবে সারা এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন। তিনি জানিয়েছেন, এই বহিষ্কারের কারণে গত ১৮ মাস তাকে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, যা তার ক্যারিয়ারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পূর্ণ ক্ষমা দাবি করেছেন এবং ৯৮,০০০ পাউন্ড ক্ষতিপূরণের দাবিতে কাউন্টি কোর্টে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেছেন।






