চালের বাজার নিয়ে তিন উপদেষ্টা তিন ধরনের কথা বলেছেন। তিনজনই দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে চালের দাম আর বাড়বে না। কিন্তু বিশ্ববাজারে চালের দাম যখন কমতির দিকে, তখন দেশের বাজার কেন উর্ধ্বমুখী, এই প্রশ্নের জবাব নেই।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় মঙ্গলবার নির্মাণাধীন সাইলো পরিদর্শন শেষে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘বিদেশ থেকে কয়েক দফা আমদানি করায় চালের দাম আর বাড়বে না। আমরা আরও চাল আনতে থাকব। তবেই দাম বাড়ার সুযোগ আর থাকবে না।’কিন্তু তিনি সরকারি গুদামে চালের মজুদ যে ক্রমেই কমে যাচ্ছে তা বলেননি। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সরকারি গুদামে যে চাল মজুদ থাকার কথা তারচেয়ে অনেক কম আছে। এ কারণেই সরকার স্মার্ট কার্ডের বিপরীতে সাশ্রয়ী দামে অন্যান্য ভোগ্যপণ্য দিলেও চাল দিচ্ছে না।
বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়ি এলাকার দীপিকার মোড়ে টিসিবির পণ্য বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বর্তমানে আমনের ভরা মৌসুম চলছে। বাজারে চালের ঘাটতি নেই। ফলে চালের যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, তা অযৌক্তিক। দাম বাড়ার পেছনে সাময়িক মজুতদারি হয়েছে। চালের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উপদেষ্টা স্বীকার করেছেন ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ার যৌক্তিক কারণ নেই। কিন্তু এই কাজটি যাঁরা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না সরকারকে। আওয়ামী লীগ সরকার অলিগার্ক বা কোটারি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য মজুদদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার কেন চুপচাপ বসে আছে? কেন উপদেষ্টারা অতি মৃদু কণ্ঠে কারসাজির কথা বলছেন। অথচ সরকার একজন কারসাজিওয়ালাকেও ধরছেন না।






