উচ্চমাধ্যমিকে ২ পাবলিক পরীক্ষা

প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান না কি অন্য শাখায় পড়বে, সেটা ঠিক হবে একাদশ শ্রেণিতে। এর আগে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সবাইকে অভিন্ন ১০টি বিষয় পড়তে হবে।

বইয়ের সংখ্যাও এখনকার চেয়ে কমবে। বিষয়বস্তু বদলাবে। আর এসএসসি পরীক্ষা হবে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুটি পাবলিক পরীক্ষা হবে, যার ভিত্তিতে এইচএসসির ফল প্রকাশ করা হবে।

এমন প্রস্তাব ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আগামী বছর নতুন পাঠ্যবই পাবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রমে নতুন বই দেওয়া হবে। আগামী মার্চের মধ্যে শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করে পর্যায়ক্রমে ২০২৫ সালে গিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পুরোপুরি শিক্ষাক্রম বাস্তবায়িত হবে।

এনসিটিবির দুজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, কিছু বিষয় প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। আর কিছু পরিকল্পনার মধ্যে আছে। শিক্ষাবিদ ও এনসিটিবির কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে শিক্ষাক্রম পরিমার্জন হচ্ছে।

সর্বশেষ ২০১২ সালে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হয়েছিল।

ষষ্ঠ থেকে দশম পর্যন্ত ১০ বই
প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে ১০টি অভিন্ন বই পড়ানো হবে। এরপর একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে শাখা পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হবে। বর্তমানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কিছু অভিন্ন বই পড়তে হয় এবং নবম শ্রেণিতে গিয়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এসব শাখায় ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত যে ১০টি বই পড়ানো হবে, সেগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সামাজিক বিজ্ঞান, জীবন ও জীবিকা, ধর্ম, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি। বর্তমানে এসব শ্রেণিতে ১২ থেকে ১৪টি বই পড়ানো হয়।

এনসিটিবির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমে একেকটি বিষয়ে কী কী শেখানো হবে, তাও বলে দেওয়া হচ্ছে। যেমন বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ের পরিবর্তে নতুন শিক্ষাক্রমে সামাজিক বিজ্ঞান বইটি যুগোপযোগী করে দেওয়া হচ্ছে। এতে সমাজ ও বিশ্বনাগরিকত্ব, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো শেখানো হবে।

বই কমানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলেছেন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম। তবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে বাংলা ভাষাসহ অন্য বিষয়গুলো ভালোভাবে শিখতে পারে, সেই ব্যবস্থা রেখে বইগুলো প্রণয়ন করতে হবে।

দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে এসএসসি পরীক্ষা
বর্তমানে দুই বছর মেয়াদি নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির (সিলেবাস) ভিত্তিতে এসএসসি পরীক্ষা হয়। পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমে কেবল দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এনসিটিবির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, নবম শ্রেণিতে যেসব দক্ষতা শেখানোর কথা, তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই মূল্যায়ন করা হয়। নবম শ্রেণি পাস করে দশম শ্রেণিতে ওঠে। তাই কেবল দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে এসএসসি পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপও কমবে। এটি অনুমোদন হলে ২০২৪ সালে গিয়ে বাস্তবায়ন হবে।