বর্তমান সংসদ মেয়াদের শেষের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত সব হোটেল বন্ধ করার লেবার পার্টির অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এই সপ্তাহে ১১টি আশ্রয়প্রার্থী হোটেল বন্ধের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে হোম অফিস। সংসদের বর্তমান মেয়াদের শেষের মধ্যে এসব হোটেলের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
কোভিড মহামারির শুরুতে আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলে রাখার প্রথা ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি বিতর্কিত হয়ে ওঠে। অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন হোটেলের সামনে প্রতিবাদ করে দাবি করেছেন, আশ্রয়প্রার্থীরা সেখানে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ২০০টি হোটেলে ৩০,০০০ আশ্রয়প্রার্থীকে রাখা হয়েছে। এছাড়া আরও ৭০,০০০-এর বেশি আশ্রয়প্রার্থী বিভিন্ন ধরনের আবাসনে থাকছেন, যেমন শেয়ার করা বাসা বা সামরিক ব্যারাক।
কিছু প্রতিবাদ সহিংসতায় রূপ নেয়। যেমন, আগস্ট ২০২৪ সালে রথারহ্যামে বিক্ষোভকারীরা আশ্রয়প্রার্থীদের থাকা একটি হোটেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। শরণার্থী বিষয়ক এনজিওগুলো বলেছে, দীর্ঘমেয়াদে থাকার জন্য হোটেল উপযুক্ত নয়। সংসদীয় তদন্তে বলা হয়েছে, সরকার একটি “ব্যর্থ, বিশৃঙ্খল ও ব্যয়বহুল ব্যবস্থায়” বিলিয়ন পাউন্ড অপচয় করেছে। তদন্তে রেড ক্রস জানায়, হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের পোশাক দেওয়ার জন্য তাদের দুর্যোগ তহবিল থেকে ২২০,০০০ পাউন্ড ব্যয় করতে হয়েছে; তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্ক্যাবিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
এই সপ্তাহে হোম অফিস একটি ব্যক্তিগত বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যাকে তারা “ইন্ডাস্ট্রি ডে” বলছে, যেখানে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আশ্রয়প্রার্থী আবাসন প্রদানকারীরা অংশ নেবেন। বৈঠকের সময় ও স্থান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রকাশ করা হবে না এবং অংশগ্রহণকারীদের এনডিএতে স্বাক্ষর করতে হবে।
এই বৈঠকটি ১ সেপ্টেম্বর ২০২৯ থেকে ৩১ আগস্ট ২০৩৬ পর্যন্ত আশ্রয়প্রার্থী আবাসন চুক্তি পুনঃনিবিদার (রি-টেন্ডারিং) বিষয়ে। প্রয়োজনে ৩১ আগস্ট ২০৩৯ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। “ফিউচার অ্যাসাইলাম কনট্রাক্টস অ্যাকোমোডেশন” নামে নতুন এই চুক্তির মূল্য প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড, যার লক্ষ্য হোটেলের ওপর নির্ভরতা কমানো। তবে বর্তমান আবাসন প্রদানকারীদের উচ্চপর্যায়ের সূত্র বলছে, নতুন চুক্তিতে ঠিকাদারের সংখ্যা বাড়তে পারে, অদক্ষতা তৈরি হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত করদাতাদের ব্যয় বাড়তে পারে।
হোম অফিস বিদেশি সাহায্য বাজেটের একটি অংশ ব্যবহার করে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন খরচ বহন করে, যাকে “ইন ডোনর রিফিউজি কস্ট” বলা হয়। এই খরচ ২০২৪ সালে ২.৮ বিলিয়ন পাউন্ড থেকে ২০২৫ সালে কমে ২.৪ বিলিয়ন পাউন্ডে নেমে আসে।
বন্ড নামের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে কাজ করা যুক্তরাজ্যের এনজিও নেটওয়ার্কের নীতি ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক গিডিয়ন রাবিনোভিৎস বলেন, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সাহায্য বাজেটের অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। তিনি বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তা করা উচিত হলেও সেই অর্থ হোম অফিসের বাজেট থেকেই আসা উচিত।
তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও সংকটে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়ন ২০২৫ সালে ১ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি কমেছে, কারণ বাজেটের ১৮% যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের খরচে ব্যবহৃত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সিরিয়ায় শিক্ষা কর্মসূচি ও আফ্রিকাজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মতো জীবনরক্ষাকারী মানবিক প্রকল্প ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। সামনে আরও বাজেট কমানোর ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”
হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, “এই সরকার অবৈধ অভিবাসীদের ব্রিটেনে আসার প্রণোদনা কমাচ্ছে এবং যাদের থাকার অধিকার নেই তাদের ফেরত পাঠানো বাড়াচ্ছে। তাই আমরা সব আশ্রয়প্রার্থী হোটেল বন্ধ করছি এবং তাদের মৌলিক আবাসনে স্থানান্তর করছি, যার মধ্যে সাবেক সামরিক স্থাপনাও রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গত এক বছরে আশ্রয়প্রার্থী হোটেলে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০% কমেছে এবং আগের সরকারের সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৪৫% কমেছে, ফলে প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ কমানো সম্ভব হয়েছে।”






