কোটা সংস্কার আন্দোলনে সৃষ্ট সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় সরকার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও বিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর আগে মঙ্গলবার দেশব্যাপী সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ছয়জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন কয়েক শ। বুধবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতা ঘটেছে। আমরা প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধারণ করার কথা বলেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য তারা এসব পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক আন্দোলনে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ঢুকে নাশকতা করছে। সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে, সরকার কেন তাদের ভাষায় রাজনৈতিক শক্তির অনুপ্রবেশের আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে কোটার বিষয়ে সমঝোতা করল না?আমাদের ধারণা, সরকার ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া লাখ লাখ তরুণের শক্তি ও সাহস অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে। নীতিনির্ধারকেরা শুরু থেকে আদালতের দোহাই দিয়ে এলেও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করেছেন, যা পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে নিয়ে গেছে।
বুধবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত গায়েবানা জানাজায় বাধা দিয়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্ষান্ত থাকেনি, তারা শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসছাড়া করতে অসংখ্য কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। এটা কেবল অগ্রহণযোগ্য নয়, নিন্দনীয়। কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোও দ্রুততম সময়ে ছেড়ে যেতে বলেছে। কোনো শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা যদি আক্রান্ত হন, বিপদে পড়েন, তার দায় কে নেবে? আবাসিক হলগুলোতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।






