স্লোভেনিয়ায় উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসনের সুযোগ

স্লোভেনিয়া মধ্য ইউরোপে ছোট একটি দেশ। আয়তন যেমন খুব বেশি বড় নয়, ঠিক তেমনি দেশটিতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও খুব বেশি নয়। ২১ লাখের কাছাকাছি জনসংখ্যার মধ্য ইউরোপের দেশটির উত্তরে অস্ট্রিয়া, পশ্চিমে ইতালি, উত্তর-পূর্বে হাঙ্গেরি, দক্ষিণ-পূর্বে ক্রোয়েশিয়া এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে আড্রিয়াটিক সাগরের উপকূল দ্বারা বেষ্টিত। ইউরোপের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল যথা: আল্পস পর্বতমালা, প্যানোনিয়ান প্লেট, ভূমধ্যসাগর এবং ডিনারেইডসের মিলন ঘটেছে এ স্লোভেনিয়ায় এসে।
লুবলিয়ানা দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। স্লোভেনিয়া একসময় লিবারেল কমিউনিজমের ভিত্তি ভূমি হিসেবে পরিচিত সাবেক যুগোস্লাভিয়ার অংশ। ১৯৯১ সালের ২৫ জুন প্রথম কোনো রাষ্ট্র হিসেবে স্লোভেনিয়া যুগোস্লাভিয়ার জোট থেকে বেরিয়ে নিজেদের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়া সে সময় স্লোভেনিয়ার স্বাধীনতার দাবিকে অস্বীকার করে। শুরু হয় যুদ্ধ, যা ১০ দিন ব্যাপী স্থায়ী হয়েছিলও। এ জন্য ইতিহাসে স্লোভেনিয়ার স্বাধীনতাযুদ্ধকে ১০ দিনের যুদ্ধ নামেও অভিহিত করা হয়।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ছিল ইউরোপ মহাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো সংগঠিত যুদ্ধ, যেখানে ৭৬ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। তাই স্লোভেনিয়াকে অপেক্ষাকৃতভাবে নতুন একটি রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিলেও ভুল হবে না। তবে স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটি অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ যাবতীয় ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করতে থাকে। ২০০৪ সালে স্লোভেনিয়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যপদ পায়। ২০০৭ সালে টোলারের বদলে ইউরো দেশটির জাতীয় মুদ্রা হয়। একসময় কমিউনিজম শাসনের প্রচলন ছিল, এমন রাষ্ট্রের মধ্যে স্লোভেনিয়াই সর্বপ্রথম ইউরোর ব্যবহার শুরু করে। ব্রাউন বিয়ার, বিভিন্ন ধরনের সুউচ্চ পর্বতমালা বিশেষ করে আল্পস পর্বতমালা ও বিভিন্ন হৃদ ও স্কি রিসোর্টের জন্য স্লোভেনিয়া পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল।