সিলেট নগরে ৯৬৮ কিলোমিটার নালা-নর্দমার মধ্যে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার নর্দমায় ঢাকনা আছে। ঢাকনাবিহীন আছে ৮১৮ কিলোমিটার। শুধু এই তথ্যটুকুর গুরুত্ব যাঁরা বুঝতে পারেন, তাঁরা এটিও বুঝতে পারবেন, একটি নগরের পরিবেশদূষণের জন্য এটাই যথেষ্ট। দূষণের জন্য আর কিছু না থাকলেও চলে।
প্রথম আলোয় এ-সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন এসেছে, তা পড়লে যে কেউ শিউরে উঠবেন। প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, নগরের ২৭টি ওয়ার্ডেই কমবেশি নর্দমার ঢাকনা উন্মুক্ত রয়েছে। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বছরজুড়ে লেগে থাকে। পাড়া-মহল্লার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর থাকে। রাতের বেলায় পথচারীরা চলতে গিয়ে প্রায়ই নর্দমায় পড়ছে। অনেক পাড়া-মহল্লার নর্দমায় ঢাকনা না থাকায় শিশুরা খেলাধুলা করতে গিয়ে প্রায়ই অসাবধানতাবশত নর্দমায় পড়ে জখম হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে সড়কবাতি না থাকায় রাতে রিকশাচালকেরাও নর্দমায় রিকশাসহ পড়ে আহত হচ্ছেন।
একটি বিভাগীয় শহরের এই অবস্থা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। দেশের নাগরিকেরা তাঁদের কষ্টার্জিত আয় থেকে সিটি করপোরেশনকে কর দেন। সিটি করপোরেশন তাঁদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবে—এটিই স্বাভাবিক কথা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। একটি নগরের সাড়ে ৮০০ কিলোমিটার নর্দমায় যদি ঢাকনা না থাকে, তাহলে ধরেই নেওয়া যায়, গোটা শহরের নোংরা-আবর্জনার দুর্গন্ধ সারা দিন শহরজুড়ে পাক খেতে থাকে। সেই দুর্গন্ধের সঙ্গে নানা রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। এতে কত মানুষ কত রোগে আক্রান্ত হয়, তা হিসাব করা সম্ভব নয়, শুধু উপলব্ধি করা যেতে পারে। বিশেষ করে মশার আঁতুড়ঘর হচ্ছে এসব নর্দমা। কিন্তু জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদাসীনতা দেখে ধারণা হতে পারে, মশা নিধন, মশার জন্ম ও বংশবৃদ্ধি রোধ, মশার কামড় থেকে বাঁচা—এর কোনোটিরই দায় তাদের নয়। তাই কোনো নর্দমা পরিষ্কার বা ঢেকে রাখার প্রয়োজন নেই। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ কীটপতঙ্গ-বাহিত অসুখ প্রতিবছর নগরবাসীকে যে বিপর্যস্ত করে এবং তাদের প্রাণহানি, বিত্তক্ষয়, স্বাস্থ্যভঙ্গ ঘটায়, তা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই বলেই মনে হতে পারে।
উন্মুক্ত নর্দমার বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা অবশ্য বলেছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে সব নর্দমায় ঢাকনা বসানো হবে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাঘাট ডুবে গেলে পথচারীরা নর্দমায় পড়ে আহত হন। সে বিষয়টি মাথায় রেখে তাঁরা বর্ষা আসার আগেই দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার নর্দমায় ঢাকনা বসাবেন। প্রকৌশলীদের এই বক্তব্যে নগরবাসীর কতটুকু আস্থা আছে, তা তর্কসাপেক্ষ। এই নাগরিক আস্থার জায়গাটি দৃঢ় করা দরকার। উন্মুক্ত নর্দমা ঢেকে দিতে যত দেরি হবে, নগরবাসীর আস্থা তত নড়বড়ে হতে থাকবে। ফলে এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।






