করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও প্রবাসী আয়ের রেকর্ড বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার মজুত যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি আস্থাও বাড়িয়েছে

প্রবাসী আয় যতটা এসেছে, সমপরিমাণ টাকা ঠিকঠাক বুঝিয়ে দিলেও কর্মকর্তাটি গড়িমসি শুরু করেন প্রণোদনার অর্থ নিয়ে। সহকর্মী সেই অর্থ চাইলে ‘এটাও নেবেন’, ‘বেশি টাকা না তো’, ‘অনেকেই তো নেয় না’—এ জাতীয় কথাবার্তা বলা শুরু করেন।
সরকারি ব্যাংকের সেবা নিয়ে এমনিতেই অভিযোগ আছে। সরকারি ব্যাংক, অর্থ সুরক্ষিত থাকবে—এই ভরসা ও নিশ্চয়তার কারণে দেশের বড় অংশ আমানতকারী সরকারি ব্যাংককে বেছে নেন। সহ্য করেন সেবার অপর্যাপ্ততা। অর্থ তোলা বা কোনো বিল দেওয়ার সময় খুচরা অর্থ না দেওয়ার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। এর সঙ্গে এখন জানা যাচ্ছে নতুন আরেকটি অভিযোগ।

প্রবাসী আয় উত্তোলন নিয়ে পুরোনো একটি ঘটনার কথা বলা যায় এখন। মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়েছিলেন ১৯৯৮ সালে। প্রবাসীরা তার আগেও ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতেন। তবে সে সময় ব্যাংকের চেয়েও জনপ্রিয় ছিল হুন্ডি। দর যেমন ছিল বেশি, অর্থ আসত দ্রুত ও সহজ পথে। ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠালে দর পাওয়া যেত কিছু কম, আর পাওয়া যেত দেরিতে। একজন প্রবাসী দেশে অর্থ পাঠালে ব্যাংক কদিনের মধ্যে তা প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না। ফলে ব্যাংক খেয়ালখুশিমতো অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করত।

গভর্নর হয়েই ড. ফরাসউদ্দিন প্রবাসী আয় কদিনে প্রাপকের হাতে দিতে হবে, সেই সময়সীমা বেঁধে দেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ পালনে বেশ কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা ব্যর্থ হলে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন ড. ফরাসউদ্দিন। বিভিন্ন ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছিলেন। এই নিয়ে তখন ব্যাংক মহলে বেশ আলোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি। তৎকালীন গভর্নরের সেই ভূমিকার কারণে পরে আর কোনো ব্যাংক অর্থ পৌঁছে দিতে শিথিলতা দেখায়নি। তারপর থেকে হুন্ডি বন্ধ হয়ে গেছে, তা বলা যাবে না। কিন্তু ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আসা বেড়েছিল।

সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৯ সালে প্রবাসী আয়ে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেওয়া শুরু করেছে সরকার। এতে বেড়েছে প্রবাসী আয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরে প্রথম তিন মাসের প্রবৃদ্ধি বিস্ময়কর, ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও প্রবাসী আয়ের রেকর্ড বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার মজুত যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি আস্থাও বাড়িয়েছে।