আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড সম্প্রতি উসকে দিয়েছেন বিতর্কটা। সম্প্রতি সাবেক হয়ে যাওয়া আইসিসির এলিট প্যানেলের এই আম্পায়ার মনে করেন ২০১১ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শচীন টেন্ডুলকারের বিরুদ্ধে দেওয়া তাঁর এলবিডব্লু সিদ্ধান্তটি ঠিকই ছিল। পরে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ভারতীয় কিংবদন্তি। এরপরের ইতিহাস সবারই জানা। ৮৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলে তিনি ভারতের ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। গোল্ডের মন্তব্যে পুরোনো কষ্টটা আবারও জেগে উঠেছে সাঈদ আজমলের। তাঁর বলেই যে সেদিন ২৩ রানে ফিরতে পারতেন টেন্ডুলকার।
সেই স্মৃতি মনে করে পাকিস্তানের সাবেক এই অফ স্পিনার বলেন, ‘ওটা পুরোপুরি আউট ছিল। আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম। আমাকে আফ্রিদি, ওয়াহাব আর কামরান আকমল জিজ্ঞেস করেছিল। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলেছিলাম, টেন্ডুলকার আউট।’
গোল্ড টেন্ডুলকারকে এলবিডব্লু ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ভারত রিভিউ নেয়। টেলিভিশন আম্পায়ার ছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিলি বাউডেন। তিনি অবশ্য গোল্ডের সিদ্ধান্তটি বাতিল করে দেন। আজমল সেই মুহূর্তটিকে পাকিস্তান দলের জন্য ‘হৃদয় বিদারক’ই বলেছেন। টেলিভিশন আম্পায়ারের সিদ্ধান্তটি যে এখনো তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায় সেটিই বলেছেন আজমল, ‘তৃতীয় আম্পায়ারের সেই সিদ্ধান্তটি এখনো আমাকে পীড়া দেয়। সেদিন ভাগ্যই টেন্ডুলকারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। যেখানে ২৩ রানে টেন্ডুলকার ফিরতে পারত, সেখানে সে শেষপর্যন্ত করে ৮৫। এই রানটাই সেমিফাইনালে পার্থক্য হয়ে দাঁড়ায়।’
আজমলের আফসোস টেস্টে তিনি কখনোই টেন্ডুলকারের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাননি। সে কারণেই ওয়ানডে ম্যাচে তিনি সব সময়ই ‘মাস্টার ব্লাস্টারে’র উইকেট নিতে চাইতেন বলে জানিয়েছেন, ‘টেস্টে আমি কখনোই তাঁর বিপক্ষে বোলিং করার সুযোগ পাইনি। কিন্তু সাদা বলে যখনই তাঁর মুখোমুখি হয়েছি, নিজের শতভাগ দিয়েছি। তাঁর উইকেটটি নিতে চেয়েছি।’
২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত পাকিস্তানের জার্সিতে দোর্দণ্ড প্রতাপের সঙ্গেই খেলেছেন আজমল। মাঝখানে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের জন্য অভিযুক্ত হয়ে কিছুদিন ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন। অ্যাকশন শুঁধরে ফিরে তিনি আর কখনোই নিজেকে ফিরে পাননি।






