প্রতিদিন আমেরিকায় এক লাখের বেশি মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি আবার নাজুক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের হাসপাতালে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। তাঁবু খাঁটিয়ে করোনা রোগী সামাল দিতে হচ্ছে।

একদিকে শীত বাড়ছে, অন্যদিকে উৎসবের মৌসুমে লোকজনের চলাচল বাড়ছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

প্রতিদিন আমেরিকায় এক লাখের বেশি মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে। দৈনিক হাজারের কাছাকাছি মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছে।

করোনায় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মৃত্যুতেও সবার ওপরে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৩৩ লাখ ৮২ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু ২ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি।

২৯ নভেম্বর এক দিনে করোনার সংক্রমণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে ৯৩ হাজার ২৩৮ জন ভর্তি হয়েছেন।

আমেরিকার সবচেয়ে বড় উৎসব থ্যাংকস গিভিং উপলক্ষে সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবীরা আগে থেকেই উৎকণ্ঠা জানিয়ে আসছেন। ব্যাপক ভ্রমণ এড়িয়ে চলা ও বাসা-বাড়িতে পার্টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি সর্বত্র। এখন বিপুলসংখ্যক সংক্রমিত লোককে হাসপাতালে সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা চলছে। এ পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহগুলোয় আরও মারাত্মক আকার ধারণের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন শীর্ষ সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ছুটির এই মৌসুমে ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য সব নির্দেশনা কড়াকড়িভাবে পালনে জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ফাউসি বলেছেন, জনগণকে তিনি ভয় দেখাতে চান না। কিন্তু সংক্রমণ যে বেড়ে যাবে, এ নিয়ে তিনি তাঁর উৎকণ্ঠার কথা জানাচ্ছেন।

মেগান রেনি আমেরিকার একটি হাসপাতালে ইমার্জেন্সি চিকিৎসক। তিনি সিএনএনকে বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য আমেরিকার হাসপাতালগুলোর পূর্ণ প্রস্তুতি নেই। সব অঙ্গরাজ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো অবস্থা চলছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী নেই। অতিরিক্ত ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য নেই লোকবল।

প্রথম দফা আক্রমণের সময় নিউইয়র্কসহ কয়েকটি নগরীতে সংক্রমণ কেন্দ্রীভূত ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়মিত হাসপাতালের বাইরে ফিল্ড হাসপাতাল খোলা হয়েছিল। অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবী স্থানান্তর করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রায় সব অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। রোড আইল্যান্ডে ফিল্ড হাসপাতাল খোলার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স পাওয়া দুরূহ হয়ে উঠেছে।