ভারতের দিল্লিতে তিন দিনের দাঙ্গার ঘটনার সময় পুলিশের মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ একদল যুবককে মারধর করতে করতে বলছিল, তোদের স্বাধীনতার শখ মিটিয়ে দেব। ওই ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন করেছে বিবিসি অনলাইন।
ভিডিওতে যাঁদের মারধর করতে দেখা গেছে, তাঁদের একজন রফিক। পুলিশের মারধরে গুরুতর আহত রফিক বলেন, পুলিশ মারধর করার সময় বারবার বলছিল, তোদের স্বাধীনতার শখ মিটিয়ে দেব। এই কথা বলছিল আর জোরে জোরে মারছিল। ওই দিনের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দাঙ্গা শুরুর সময় আমি আমার মাকে খুঁজতে বের হয়েছিলাম। হঠাৎ পুলিশ সেখানে আসে। সবাই তখন দিগ্বিদিক দৌড়াতে শুরু করে। আমিও দৌড় দিই। দৌড়াতে গিয়ে আমি পড়ে যাই। তখন পুলিশ আমাকে ধরে ফেলে। আমাকে না মারতে পুলিশের কাছে আমি বারবার অনুরোধ করি। বলি, আমাকে ছেড়ে দেন। কিন্তু তারা আমাকে মারতেই থাকে। আমি কোনো রকমে বেঁচে ফিরেছি। আমি এত ভয় পেয়েছিলাম যে হাসপাতালে যাওয়ার সাহস করতে পারিনি। আবার কোথা থেকে কী হয়ে যায়, এখনো সেই ভয়ে আছি।’ পুলিশের মারধরে শরীরের বিভিন্ন অংশ কালো হয়ে গেছে তাঁর। ব্যথা আর ওই দিনের দুঃসহ স্মৃতির কথা মনে করে অঝোরে কাঁদছিলেন রফিক। বলছিলেন, ‘পরিস্থিতি শান্ত হলে হাসপাতালে যাব। এই ঘটনা ভারতের অবস্থা এত খারাপ করে দিল! কী বলব বুঝতে পারছি না।’
রফিক মারধর খেয়ে গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচেছেন। তবে ফাইজান বাঁচতে পারেননি। দিল্লিতে তিন দিনের দাঙ্গায় যে ৪০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের একজন তিনি। ফাইজানের ভাই নাঈম ভাইয়ের শোকে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘পুলিশের মারধরে আমার ভাইটা মরে গেল।’
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ একদল ব্যক্তিকে মারধরের সময় জাতীয় সংগীত গাইতে বাধ্য করে। আর বলতে থাকে, ‘স্বাধীনতা চাও, তাই না? এই নাও স্বাধীনতা।’ যাঁদের মারধর করা হচ্ছিল, তাঁরা বলছিলেন, ‘আমরা সবাই ভারতীয়। দয়া করে আমাদের মারবেন না।’
নাইম বলছিলেন, ‘আমার ভাই সহজ-সরল মানুষ। তাঁর প্রতি ভয়ংকর অন্যায় করা হয়েছে। তাঁর ঠিকমতো চিকিৎসা হয়নি। পুলিশ তাঁকে অনেক মারধর করেছে। পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা বেদম মারপিট করে। তারপর তাঁকে রাস্তায় ফেলে দেয়। পরে একটি পুলিশ ভ্যান আসে। তারা ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক সময় পেড়িয়ে যায়। হাসপাতালে থেকে পুলিশ ভাইকে থানায় নিয়ে যায়। ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের কাউকে দেখা করতে দেয়নি। রাতে তাঁকে ছেড়ে দেয়। তখন সে মারাত্মক আহত ছিল। সকাল নাগাদ তাঁর অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। দ্রুত হাসপাতাল নেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।’
মারধরের শিকার ভিডিওতে থাকা আরেকজন বলছিলেন, ‘পুলিশ জাতীয় সংগীত গেয়ে যেতে বলছিল। আমরা গাইছিলাম। আর পুলিশ আমাদের মারছিল।’
এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানার জন্য বিবিসি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে দিল্লি পুলিশ কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।






