জ্ঞানের উৎস অনেক বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ—ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটার

শৈশব থেকেই আমরা শুনে আসছি—‘জ্ঞানই শক্তি।’ এই কথাটির মর্মার্থ হলো, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং আমাদের চারপাশের সমাজ ও বিশ্ব সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগের প্রজন্মে বহু পরিবারে পত্রিকা পড়াকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হতো। অভিভাবকরা শিশুদের প্রতিদিনের খবর পড়তে উৎসাহ দিতেন, যাতে তারা বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। এতে শিশুদের দৃষ্টিভঙ্গি গঠিত হতো আরো যুক্তিবোধসম্পন্ন ও তথ্যভিত্তিকভাবে। সময় বদলেছে।এখন জ্ঞানের উৎস অনেক বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ—ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটারসহ নানা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আমাদের প্রতিদিন তথ্য দিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই তথ্যগুলো কতটা নিরপেক্ষ ও সত্য? এখনকার তথ্য পরিবেশ অনেকাংশে পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রভাবিত। সমাজ ও রাজনীতির গঠন, ক্ষমতার কাঠামো এবং নৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্কে জানা আজ আরো বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। এঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার বা স্থপতির মতো পেশাগত শিক্ষা আমাদের কারিগরি দক্ষতা দেয় ঠিকই, কিন্তু এই জ্ঞান আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে শেখায় না। সমাজবোধ, ন্যায়-অন্যায়ের বিচার এবং নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের জন্য প্রয়োজন সমাজ-সম্পর্কিত জ্ঞান। তাই পেশাগত সাফল্য এবং সামাজিক-নৈতিক সচেতনতার মাঝে এক সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।