কিছু ব্যাক্টেরিয়া আংশিকভাবে বেঁচে থেকে অ্যান্টিবায়োটিকের শক্তি চিনে রাখে

মানুষের বা পশুর শরীরে বিভিন্ন রকমের জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে মানুষ বা পশু বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এই সমস্ত জীবাণুকে ধ্বংস বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তা হলো অ্যান্টিবায়োটিক।

চিকিৎসকরা রোগের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সের পরামর্শ দেন। এতে আক্রান্ত ব্যাক্টেরিয়া মারা যায় বা তাদের বংশ বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। কিন্তু অনেক রোগী কিছু অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে আরাম বোধ করলে কোর্স শেষ না করে ওষুধ বন্ধ করে দেন।এতে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। এর মানে, নির্দিষ্ট কোর্স ব্যতীত অল্প কয়েক দিনের ব্যবহারের পর রোগী ভালো হলেও আক্রান্ত ব্যাক্টেরিয়া পুরোপুরি ধ্বংস হয় না। কিছু ব্যাক্টেরিয়া আংশিকভাবে বেঁচে থেকে অ্যান্টিবায়োটিকের শক্তি চিনে রাখে।

এইভাবে আস্তে আস্তে ব্যাক্টেরিয়া শরীরে অভিযোজিত হয় এবং ভবিষ্যতে একই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির জন্যই বিপজ্জনক নয়; এটি সংক্রমণের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

চিকিৎসাবিদদের মতে, বাংলাদেশের বাজারে থাকা অ্যান্টিবায়োটিকের অধিকাংশ মানুষ ও পশুর শরীরে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে। এটি আমাদের জন্য এক ভয়াবহ সঙ্কেত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গবেষকরা বারবার সতর্ক করেছেন, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ এখন শুধু স্থানীয় নয়; বরং একটি আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য সঙ্কট। প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ এমন সংক্রমণে প্রাণ হারাচ্ছেন এবং বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আজকের তুলনায় অনেকগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স প্রায় ১ দশমিক ২৭ মিলিয়ন মৃত্যুর সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। একই সাথে গভীর বৈশ্বিক বিশ্লেষণ দেখিয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এটি প্রায় তিন কোটি ৯০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবন সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে।