কমছে আমানত, বাড়ছে ধার

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমানত কমে যাচ্ছে। তবে বাড়ছে ব্যাংক থেকে নেওয়া ধার। এতে তাদের ঋণ বিতরণ ও লিজ অর্থায়নের পরিমাণ বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনেই এমন তথ্য উঠে এসেছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংকগুলোতে যে অনিয়ম-দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে, তার প্রভাব আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও পড়েছে। কমপক্ষে এমন ১০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলোতে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এতে জড়িয়ে আছে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের নাম। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদাসীন মনোভাবের কারণেই মূলত অনিয়ম প্রকট আকার ধারণ করেছে।

দেশে বর্তমানে ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রমে আছে। এসব প্রতিষ্ঠান চলতি আমানত, পে-অর্ডার ও চেক ইস্যু করতে পারে না। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসায়ে জড়ানোর সুযোগ নেই তাদের। ব্যাংক থেকে ঋণ ও গ্রাহকদের কাছ থেকে তিন মাসের বেশি মেয়াদি আমানত নিয়ে ঋণ ও লিজ দিতে পারে এসব প্রতিষ্ঠান।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা হয় প্রাইম ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদ খানের সঙ্গে। তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। আসাদ খান বলেন, প্রথম সমস্যা হলো, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তিন মাস মেয়াদি আমানত নিয়ে তিন বছর মেয়াদে ঋণ দেয়। ব্যাংকগুলোর ঋণ ও আমানতের অনুপাত কমিয়ে দেওয়ার পর অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়। পাশাপাশি অনেক গ্রাহকও টাকা তুলে নেন। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে।

আসাদ খান আরও বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের পরিচালকেরাও অনিয়ম করেছেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তনও এসেছে। তারল্য সমস্যা কাটলে সামনের দিনে প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করবে।

সূত্র জানায়, ব্যাংকের পাশাপাশি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়ছে। গ্রাহকেরা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ ও লিজ-সুবিধা নিয়ে তা ফেরত দিচ্ছেন না। নিয়মকানুনে অনেকটা ছাড় থাকায় ব্যাংকের চেয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবসার বেশি সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে শতভাগ ভোক্তাঋণ দিতে পারছে এসব প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো কিন্তু শতভাগ ভোক্তাঋণ দিতে পারে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আস্থার সংকটে পড়ার কারণে তাদের আমানত কমে যাচ্ছে। যেমন ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানত ছিল ৪৪ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৫২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা হলেও এ বছরের মার্চে কমে হয় ৪৬ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

গ্রাহকদের আমানত কমলেও ব্যাংক থেকে ধার করে ব্যবসা বাড়াচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্যাংক খাত থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নেওয়া ধারের পরিমাণ গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ১২ হাজার ১৪০ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মার্চে বেড়ে ১৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকায় ওঠে।

LEAVE A REPLY