ইউটিউবে প্রকাশিত শূন্য ব্যান্ডের নতুন গান ‘বেহুলা’

‘আমি একজন ক্যানসার রোগী। করোনায় টানা কয়েক মাস হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলাম। অসুস্থতায় আমার দিন-রাতের কোনো পার্থক্য ছিল না। কিন্তু আমার সঙ্গে একজন বেহুলা (আমার ওয়াইফ) ছিল। একটা রুমে জাগতিক সবকিছু বাদ দিয়ে কীভাবে কয়েকটা মাস ছিল। এই সময়ে তার ছোট ভাই দুর্ঘটনায় মারা যায়। আমাকে ছেড়ে যেতে হবে বলে শেষযাত্রায় যেতে পারেনি। যদি সাধ্য থাকত, সুন্দর এ গান আমি আমার প্রিয়তমা বেহুলাকে উৎসর্গ করতাম।’ ইউটিউবে প্রকাশিত শূন্য ব্যান্ডের নতুন গান ‘বেহুলা’য় এমন মন্তব্য করেছেন এক শ্রোতা।সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে শূন্য ব্যান্ডের এ গান। ভীষণ প্রশংসা কুড়াচ্ছে সেটি। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপেও চলছে গান নিয়ে আলোচনা। তরুণ প্রজন্মের অনেকে গানটি নিজেদের মতো করে কাভারও করছেন। মুক্তির এক সপ্তাহে গানটির এমন গ্রহণযোগ্যতায় আনন্দিত, উচ্ছ্বসিত ও অনুপ্রাণিত দলের সদস্যরা।

এত পুরোনো গল্প নিয়ে গান করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে কানাডা থেকে দলের অন্যতম সদস্য ইমরুল করিম এমিল বলেন, ‘ব্যান্ডের ৬ নম্বর অ্যালবামের কাজ করছি। সবাই মিলে ভেবেছি, ভিন্নধর্মী কী করা যায়। আমরা গানের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন গল্প তুলে ধরতে চেয়েছি। বছরের শুরুতে “বিবিয়া” প্রকাশ করেছি। এটা ছিল এক মাঝির গল্প। জীবনের অনেক ঝুঁকির মধ্যে আয়-রোজগার করে তারা। “বেহুলা” বাংলার লোকগল্প, যেটা ছোটবেলা থেকে আমরা শুনে আসছি। গানে লখিন্দরের জায়গা থেকে বলার চেষ্টা করেছি। সাধারণভাবে আমরা দেখি, নারীদের অনেকভাবে উপস্থাপন করা হয়, কখনো প্রেয়সী, কখনো পাষাণী। মেয়েদের খুব কমই কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। অসম্ভব যাত্রার মাধ্যমে বেহুলা যে লখিন্দরকে ফিরিয়ে এনেছেন, তাই তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চেষ্টা করেছি। শুধু বেহুলা-লখিন্দর নন, যাঁরা প্রিয় মানুষকে খুশি করার জন্য অসম্ভবকে সম্ভব করেন, যুদ্ধ করেন, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চেয়েছি।’

এ পর্যন্ত শূন্যের পাঁচটি একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। কোনো গান থেকেই এত সাড়া পায়নি দলটি। এমিল বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করিনি, গানটা এত সাড়া ফেলবে। গানটি নিয়ে মানুষ কথা বলছে, প্রচুর কাভার হচ্ছে। পুরোনো বন্ধুরাও আমাদের গানটি নিয়ে কথা বলছে। আমরা অনেক খুশি ও সম্মানিত।’