ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় বিপদজনকভাবে পাড়ি দিয়ে রেকর্ড সংখ্যায় মাইগ্রেনটরা ব্রিটেনে প্রবেশ

দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের উইলটশায়ার কাউনটির রয়েল উটন বাসেট শহরে অবস্থিত দ্য উইলটশায়ার হোটেল, গলফ কৌরস এন্ড রিটায়ারমেনট ভিলেজ। এখানে বসবাস করেন ১০০ এর বেশী বয়স্ক মানুষ। এখন এখানে বসবাস করছেন ৮০ জনের বেশী এসাইলাম সীকার, যাদেরকে ডিসেম্বর মাসে এখানে পাঠিয়েছে হোম অফিস। লেইজার ভিলেজের বাসিন্দারা নিজের অর্থ খরচ করে হোটেলের পুল, জিম এবং গলফ কৌরস ব্যবহার করেন। কিন্তু পকেটের টাকা খরচ করে তাঁরা এসব সুবিধা ব্যবহার করলেও এসাইলাম সীকাররা আসার পর থেকে তাদেরকে হোটেলের পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে এসব সুবিধা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এখানে বসবাস করেন ৮৪ বছর বয়স্ক সাবেক টিভি প্রেজেনটার ক্রিস্টোফার মরিস। তিনিও অনেকের মতো ক্ষুব্ধ।

এসাইলাম সীকারদের অধিকাংশ তরুণ এবং যুবক, যারা রাতের বেলা একসাথে ঘুরে বেড়ায়। সঙ্ঘবদ্ধ যুবকদের দেখে বয়স্ক বাসিন্দারা ভীতি অনুভব করেন। কেবল স্থানীয় এবং বয়স্ক বাসিন্দারাই এই হোটেলকে এসাইলাম সীকারদের বসবাসের জন্য অনুপযুক্ত মনে করছেন না। সুদান থেকে আসা এসাইলাম সীকার তিন মাস যাবত এই হোটেলে বসবাস করছেন। তিনি বললেন, এরকম একটি বিচ্ছিন্ন স্থানে বসবাস করে ব্রিটিশ সমাজ সম্পর্কে ধারনা লাভ করার উপায় নেই।

৫১ হাজারের বেশী এসাইলাম সীকারের বসবাসের ব্যবস্থা করতে হোম অফিস সমুদ্র উপকূল এবং বিভিন্ন নগরীর হোটেল ও রিসোর্ট ভাড়া করেছে। এছাড়া গ্রামাঞ্চলে, কান্ট্রি সাইডে, বিমানবন্দরে এবং গলফ কৌরসেও স্থান ভাড়া করা হয়েছে। এসাইলাম সীকারদের জন্য ভাড়া দিতে প্রস্তুত যেখানেই হোটেল মালিক পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই পাঠানো হচ্ছে এসাইলাম সীকারদের।

হোম অফিস সর্বমোট ৩৯৫ টি হোটেল ভাড়া করেছে। এদের মধ্যে ৩৬৩টি ইংল্যান্ডে, ২০টি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে, স্কটল্যান্ডে ১০টি এবং ওয়েলসে মাত্র ২টি।

লেসটারশায়ারের গ্রাম কেগওয়ারথ এর হোটেলগুলো অতি সম্প্রতি এসাইলাম সীকারদের জন্য ভাড়া দেয়া শুরু করেছে। স্থানীয় মানুষের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য প্রসিদ্ধ ইউ-ট্রি লজ। এখানে রয়েছে সুইমিং পুল এবং জিম। নিকটস্থ ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দরের কারণেও ভালো ব্যবসা করে এই হোটেল। কিন্তু গত মাসে সব কিছু বদলে যায়। হোটেলে যেসব বিবাহ অনুষ্ঠান হতো, তার জন্য ফুল সাজানোর কাজ পেতেন ফ্রেডেরিকা রেনলডস। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষের এক সিদ্ধান্তে পথে বসেছে তাঁর ব্যবসা।

ফ্রেডেরিকা রেনলডস কেবল ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। বাচ্চাদের নিয়ে হোটেলের সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর।

ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় বিপদজনকভাবে পাড়ি দিয়ে রেকর্ড সংখ্যায় মাইগ্রেনটরা ব্রিটেনে প্রবেশ করছেন। তিন বছর আগে যে সংখ্যা ছিল সারা বছরে ৩ হাজার, গত বছর এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার। সরকারের ইমিগ্রেশন নীতি পক্ষপাতহীন, এমনকি সরকারের পক্ষেও এই নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছেনা। এর ফলে এসকল এসাইলাম সীকারের বসবাসের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি দিন খরচ হচ্ছে ছয় মিলিয়ন পাউন্ড।