ধন্যবাদ বন্ধুরা এই অসাধারণ অ্যারিজোনা সন্ধ্যায়। আমরা একটি দীর্ঘ পথের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। আমেরিকার মানুষ আজ কথা বলেছে, স্পষ্টভাবেই বলেছে। কিছুক্ষণ আগে আমি সিনেটর বারাক ওবামার টেলিফোন পেয়ে সম্মানিত বোধ করেছি। আমি তাকে অভিনন্দন জানাই আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে, যিনি এবং আমি- আমরা উভয়েই এ দেশকে ভালবাসি। এটা ছিল ২০০৮ সালের ৪ঠা নভেম্বর মধ্যরাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী জন ম্যাককেইনের ‘ইলেকশন নাইট’ ভাষণের সূচনা বক্তব্য।
অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফনিক্স বিলমোর হোটেলের আঙিনায় সুবিশাল শামিয়ানার নিচে দাঁড়িয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীর সেই ভাষণ গোটা দুনিয়ার মানুষের মনোযোগ কেড়েছিল। নির্বাচনে হেরে গিয়েও বিজয়ী প্রার্থীকে কীভাবে অভিনন্দিত করতে হয় এটা ছিল তার দারুণ এক দৃষ্টান্ত। আর এটাই দীর্ঘকালের আমেরিকান গণতন্ত্রের অন্যতম সৌন্দর্য। আমেরিকার প্রতিটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তাদের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ডেমোক্রেট প্রার্থী বারাক ওবামা তার ইলেকশন নাইট বক্তৃতা দিয়েছিলেন শিকাগো’র গ্রান্ট পার্কে। সেখানে তিনি পরাজিত রিপাবলিকান প্রার্থী জন ম্যাককেইনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সম্মিলিত চেষ্টায় দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ধরে রাখার অঙ্গীকার করেন। একইভাবে ২০১২ সালের নির্বাচন শেষে রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনি ম্যাসাচুস্যাটস এর বস্টন কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে তার ইলেকশন নাইট বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে অভিনন্দিত করেন।
কিন্তু আজকের নির্বাচন শেষে এমন উদার ও গণতান্ত্রিক আচরণের দেখা মিলবে কি না তা নিয়ে আমেরিকার সচেতন নাগরিক সমাজ তো বটেই গোটা দুনিয়ার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা বিশেষ উৎকণ্ঠিত। যদিও সুদীর্ঘ রেওয়াজ মেনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন ও ডনাল্ড জে. ট্রাম্প তাদের ‘ইলেকশন নাইট ইভেন্ট’-এর আয়োজন চূড়ান্ত করেছেন। সোমবার মধ্যরাতের পর অবধি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত থেকে আবার মঙ্গলবার খুব সকালে উঠেই ভোটকেন্দ্রে ছুটে গেছেন তারা।
দুনিয়াবাসীর জন্য সবচেয়ে কৌতুহলোদ্দীপক এই নির্বাচনে এখন ভোটগ্রহণ চলছে। দেশটির জনগণ তাদের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট বেছে নেয়ার জন্য স্থানীয় সময় সোমবার মধ্যরাতের পরপরই মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে ভোট দেয়া শুরু করেন। ভোট দেয়ার সুযোগ থাকবে মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত। অত্যন্ত জটিল ও নানা অদ্ভুত কায়দা-কানুনের এই নির্বাচনকে ঘিরে পৃথিবীজুড়ে শ শ কোটি মানুষ এখন উত্তেজনাকর প্রহর গুনছেন। বলা হয়ে থাকে, এটা এমন এক নির্বাচন যা নিয়ে মার্কিনিদের চেয়ে অমার্কিনিদের উৎসাহই বেশি থাকে। বাস্তবেও তাই। প্রতীক্ষার এই পালা শেষ হতে পারে নিউ ইয়র্ক সময় মঙ্গলবার মধ্যরাতেই (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে)। বিগত কয়েকটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল জানা গিয়েছিল মধ্যরাতের পরপরই।
এদিকে এই নির্বাচনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন ও ডনাল্ড ট্রাম্প তাদের ইলেকশন নাইট প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছেন। হিলারির প্রচার শিবিরের কর্মীরা এখন অবস্থান করছেন নিউ ইয়র্কের সবচেয়ে বড় মিলনায়তন জ্যাকব জাভিটস সেন্টারে। ম্যানহাটনের ১১ ও ১২ এভিনিউ এবং ৩৪ থেকে ৪০ স্ট্রিটজুড়ে অবস্থিত এই সুবিশাল কনভেনশন সেন্টারটির নামকরণ করা হয়েছে সাবেক কংগ্রেসম্যান জ্যাকব কে. জাভিটসের নামানুসারে। এখানেই আজ নির্বাচন পরবর্তী ভাষণ দেবেন হিলারি ক্লিনটন। ১৮ লাখ বর্গফুট আয়তনের মিলনায়তনটি সন্ধ্যার পরপরই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করছে হিলার প্রচার শিবির।
অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প তার ইলেকশন নাইট উৎযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন ম্যানহাটনেরই হিলটন মিডটাউন হোটেলে। তার নিজের ঠিকানা ট্রাম্প টাওয়ার থেকে মাত্র কয়েক শ’ গজ দূরে ষষ্ঠ এভিনিউ এবং ৫৩ ও ৫৪ স্ট্রিটজুড়ে অবস্থিত এই হোটেলে রয়েছে অনেকগুলো মিলনায়তন। এর মধ্যে ট্রাম্পের পক্ষে ভাড়া নেয়া গ্রান্ড বলরুমের আয়তন প্রায় ২৫ হাজার বর্গফুট। এতে কমবেশি তিন হাজার মানুষ বসতে পারবেন। অবশ্য আশপাশের আরও কয়েকটি ছোট মিলনায়তনও অবশ্য ভাড়া নেয়া হয়েছে তার অতিথিদের জন্য। ট্রাম্পের প্রচার শিবির থেকে আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, তাদের ইলেকশন নাইট সেলিব্রেশন অনুষ্ঠানে কেবলমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিরাই প্রবেশাধিকার পাবেন। আর এখানেই ট্রাম্পের ইলেকশন নাইটের ভিন্নতা। এর আগে অন্যসব নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা তাদের ইলেকশন নাইট ভাষণ দিয়েছেন কর্মী-সমর্থকদের সাধারণ জমায়েতে। তাই ট্রাম্পের এমন ‘এক্সক্লুসিভ’ আয়োজন নিয়েও সমালোচনা চলছে। কিন্তু সব সমালোচনা পেছনে ফেলে নিউ ইয়র্কের এই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী তার নির্বাচনী প্রতিপক্ষের তো বটেই দুনিয়াজুড়ে অগণিত উদারবাদী মানুষের মগজ নাড়িয়ে দিয়েছেন। এখন শুধু দেখার বিষয়, শেষ হাসি কে হাসবেন। আর তো মাত্র কয়েক ঘণ্টা।






