ইসরায়েল আক্রমণ ও নৃশংসতার তীব্রতা

আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে এবং গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতা বন্ধের চেষ্টা করতে গিয়ে বিশ্বের দুটি সর্বোচ্চ আদালত ইসরায়েলের অদম্য শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের (আইসিসি) পৃথক দুটি ঘোষণায় গাজায় ইসরায়েলকে ব্যাকফুটে যেতে বাধ্য করা উচিত ছিল। আইসিজের (বিশ্ব আদালত নামে পরিচিত) বিচারকদের একটি প্যানেল দাবি করেছিল যে ইসরায়েল অবিলম্বে দক্ষিণ গাজার রাফায় চলমান আক্রমণ বন্ধ করুক। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল আক্রমণ ও নৃশংসতার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।গত ২৩ মে গাজা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া শরণার্থী পরিবারগুলোর একটি কথিত ‘নিরাপদ অঞ্চলে’ বোমা হামলা চালায় ইসরায়েল। বিমান হামলার ফলে তাঁবুতে ঘেরা একটি এলাকায় আগুন ধরে যায়, কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাঁদের মধ্যে অনেকে জীবন্ত পুড়ে যান। এক ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরায়েলি বোমা হামলায় একটি শিশুর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মাথা ধরে আছেন এক ব্যক্তি । আরও শতাধিক, যাঁদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু, ভয়াবহ দগ্ধসহ গুরুতর জখম হয়েছেন। ইসরায়েল সেখানকার প্রায় সব চিকিৎসা-সুবিধা ধ্বংস করেছে, যা রাফায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা করতে পারত। সেই সঙ্গে  ইসরায়েল বেদনানাশক ওষুধের মতো মৌলিক চিকিৎসা সরবরাহ প্রবেশ প্রত্যাখ্যান করেছে, যা ফিলিস্তিনিদের যন্ত্রণা কমাতে পারত।

এ ঘটনাগুলো ঠিক সেটারই ফলাফল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কয়েক মাস আগে সতর্ক করেছিলেন, রাফায় ইসরায়েলি হামলা একটি ‘রেড লাইন’ তৈরি করবে। কিন্তু ইসরায়েল এটি অতিক্রম করার মুহূর্তে মার্কিন ‘রেড লাইন’ হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। বাইডেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাফার ছবিগুলোকে ‘হৃদয়-বিধ্বংসী’ বলে একটি বিবৃতি দিয়ে তাঁদের দায় সেরেছেন।

২৩ মের হামলার পরও এ ধরনের ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। ইসরায়েলি বাহিনী দুই দিন পর একই এলাকায় আবার হামলা চালায়। তারা ২১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে, যাঁদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।