মধুর সঙ্গে বাদামের সন্ধি নতুন মনে হলেও বাদাম ও মধুর ইতিহাস বেশ পুরোনো। গবেষকদের মতে, প্রাচীনকাল থেকেই খাবার হিসেবে ফলমূল, শাকসবজি ও মাংসের পাশাপাশি বাদামেরও চাহিদা ছিল। বাদামের উচ্চ পুষ্টিগুণ এই চাহিদার অন্যতম কারণ। বাড়তি যত্ন ছাড়াই বাদাম অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়। ফলে মানবসভ্যতার পথপরিক্রমায় খাবারের তালিকায় বাদামের অবস্থান বেশ শক্ত। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, গ্রিক ও রোমানরা ওষুধ হিসেবেও বাদাম ব্যবহার করত।
তবে হানি নাটস নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সম্ভবত করোনার পর। করোনাকালে অনলাইনকেন্দ্রিক ব্যবসাগুলোর প্রসারই হানি নাটসের নাম আমাদের কানে পৌঁছে দিয়েছে।
ফেসবুকনির্ভর বিক্রেতারা তাঁদের চটকদার বিজ্ঞাপনে দাবি করছেন, সুন্দরবনের মধু বা নিজেদের লিচুবাগান থেকে সংগৃহীত মধু, সৌদি আরবের ত্বিন ফল ও খেঁজুর এবং দেশি–বিদেশি হরেক রকম বাদাম মিশিয়ে হানি নাটস তৈরি হয়। অনেক ভিডিওতে মৌচাকে ধোঁয়া দিয়ে মধু সংগ্রহের প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সব উপকরণ এক করে হানি নাটস তৈরির প্রক্রিয়াও দেখানো হয়।
হানি নাটসের একটি প্যাকেজে সাধারণত কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পেস্তাবাদাম, আখরোট, অ্যাপ্রিকট, মাবরুম খেজুর, আজওয়া খেজুর, কিশমিশ ইত্যাদি থাকে। দাম ও চাহিদাভেদে অনেকে আলুবোখারা, তিল, সূর্যমুখীর বিজ, চিয়া সিডের মতো বীজও দেন। এর সঙ্গে মেশানো হয় মধু। বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ঘুরে দেখা গেল, ১ কেজির একটি হানি নাটস প্যাকেজে প্রায় ৫০০-৬০০ গ্রাম বাদামের সঙ্গে ৪০০-৫০০ গ্রাম মধু থাকে।
হানি নাটস নিয়ে আলোচনা জমে উঠেছে মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে। অনলাইন বিজ্ঞাপন ও এই খাবার নিয়ে ফেসবুক লাইভে ব্যাপক প্রচারণা খাবারটিকে পরিচিত করেছে। বিশেষ করে, জামশেদ মজুমদার নামের একজন বিক্রেতা রীতিমতো ভাইরাল হয়েছেন এই হানি নাটস বিক্রি করেই। তাঁর ‘আমি জামশেদ মজুমদার, ঘরের বাজার ডটকম থেকে’ বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক-নেতিবাচক দুভাবেই এসেছে এই নাম। অনেকে ট্রলও করছেন। তবে জামশেদ মজুমদারের মতো আরও অনেক হানি নাটস ব্যবসায়ী অনলাইনে বেশ সরব।






