হোয়াইট হাউসে আসিয়ান নেতারা সফরে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এশিয়া সফরে এসেছিলেন। তাঁর সফরটি ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত। এতে প্রত্যাশার চাপ থাকলেও সেটি পূরণ হয়নি। বাইডেনের এ সফরে কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত আসেনি। আসিয়ানের অর্থনীতিতে বাইডেন ১৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এটা খুব বড় অঙ্কের অর্থায়ন নয়। এতে বলা যায়, এশিয়া সফরকে তিনি তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, এশিয়াকে কম গুরুত্ব দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে ভুগতে হবে।
প্রকৃতপক্ষে এশিয়ার ১২টি দেশ বাইডেনের পৃষ্ঠপোষকতায় নতুন অর্থনৈতিক জোট ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক (আইপিইএফ) গঠনের প্রস্তাবের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। যদিও এই জোটের ফল কী, কী ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা সদস্যদেশগুলো পাবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই বলা হয়নি। যাহোক, এরপরও জোট গঠনের প্রস্তাবটি প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি, তবে একটা শিথিলতা এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা, তাতে এ সময় নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করা কিংবা আগের চুক্তিটাকে (উদাহরণস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত ও পরে বাতিল করা কম্প্রিহেন্সিভ অ্যান্ড প্রগ্রেসিভ অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্সপ্যাসিফিক অ্যাগ্রিমেন্ট (সিপিটিটিপি) পুরোদমে বাস্তবায়ন করার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু এ ঘটনাকে পুরোপুরি খারাপ সংবাদ হিসেবে পাঠ করা ঠিক হবে না।
প্রকৃতপক্ষে ১২টি দেশের পৃথক প্রয়োজন বিবেচনায় আইপিইএফের মতো একটি শিথিল চুক্তির প্রস্তাব যথার্থ। উদাহরণস্বরূপ, তাইওয়ানের প্রসঙ্গটি ধরা যাক। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে আইপিইএফ জোটে তাইওয়ানকে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানায়নি। চুক্তির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে নমনীয়তা থাকায় তাইওয়ানের মতো জটিল ইস্যুটাকে আত্তীকরণ করা সম্ভব হয়েছে।






