রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎসহ মেগা প্রকল্প

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎসহ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আগে নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধের চাপও কিন্তু বাড়ছে। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে। সে জন্য নতুন বাজেটেও বেশি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে এ খাতে।

ইআরডির তথ্যমতে, সরকার চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আগের নেওয়া ঋণ পরিশোধ করেছে ১০৪ কোটি ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার মতো। সে হিসেবে সরকার নিট বিদেশি ঋণ পেয়েছে ২৬ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে সরকার ৯০ কোটি ডলার বা ৭ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বেশি খরচ করতে হয়েছে।

ইআরডির তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার সর্বোচ্চ ১৭২ কোটি ডলার ঋণ পেয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)

কাছ থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮২ কোটি ডলার ছাড় করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা জাইকা। তৃতীয় স্থানে আছে চীন। তারা ছাড় করেছে চীন ৪৩ কোটি ডলার।

এডিবি থেকে পাওয়া ঋণ দিয়ে সরকার টিকা কিনেছে। সে কারণে সংস্থাটির ঋণ ছাড়ের পরিমাণ বেশি। জাইকার অর্থায়নে মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান। চীনের অর্থায়নেও বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে এখন।

বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইআরডির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এক দশক আগে মেগা প্রকল্পগুলোতে নেওয়া বিদেশি ঋণ পরিশোধ করা শুরু হয়েছে। সে কারণে ঋণ পরিশোধ বেশি হচ্ছে। এ ছাড়া গত দুই বছর টানা বিদেশি ঋণ ছাড়ে রেকর্ড হয়েছে। সে কারণেও ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বাড়ছে।

এদিকে এখন পর্যন্ত সরকার যে ৩৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকার সহায়তা পেয়েছে, তার মধ্যে ঋণের পরিমাণ ৩৪ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। বাকি ১ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা মিলেছে অনুদান হিসেবে। আর যে ৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার, তার মধ্যে মূল ঋণ ৬ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। বাকি ২ হাজার ২১০ কোটি টাকা পরিশোধ হয়েছে সুদ বাবদ।