রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় যে রাজনীতি, বহুদিন সে দেশ থেকে ‘নিখোঁজ’। তার আনুষ্ঠানিক শেষকৃত্যানুষ্ঠান কেউ করেনি বটে, তবে তার ‘বেঁচে থাকা’ নিয়ে নিঃসংশয় হতে দরকার শতভাগ আশাভরা বুকের পাটা। রাজনীতির নামে যা চলছে হরে-দরে, সাধারণ মানুষের কাছে তা ‘ভোট’ ও ‘দাপট’-এর বেশি কিছু নয়। যাঁর দাপট যত বেশি, ভোটের মাঠে জয় তাঁর তত কুক্ষিগত। কথাটিকে ছড়া কেটে এভাবেও বলা যায়, ‘যাঁর যত দাপট, তাঁর তত ভোট’। আজকের দিনের শিশুটিও বোঝে, যাঁর হাতে ক্ষমতা, দাপট তাঁর; জনসমর্থন এখন আর কাউকে বলীয়ান করে না। তাই ‘জনমত’ শব্দটি টিকে আছে অভিধানে, আর জনগণের গুরুত্ব আছে কেবল সংবিধানে। দেশের জল-হাওয়া-মাটিতে এসবের কোনো জায়গা নেই!
তবে ইতিহাসের শিক্ষা মানলে বলতে হয়, যুগে যুগে তরুণ-যুবাদের বুকের পাটাতনে জায়গা পেয়েছে দেশ, দেশের মানুষ। তাঁদের রক্তে খেলা করে ভবিষ্যৎ গড়ার আকাঙ্ক্ষা। তাই স্বভাবত নবীনদের আগমনে রাজনীতির ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়া চালুর একটা আশাবাদ তৈরি হয় বৈকি। ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকের ‘গণ অধিকার পরিষদ’ কি সেই বার্তার বাহক নয়? তবে তাদের কোটা সংস্কার আন্দোলন যেভাবে নতুন সামাজিক অহিংস শক্তির উন্মেষ ঘটিয়েছিল, দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির ময়দানে তা কতটা কার্যকর থাকতে পারবে, আছে সে প্রশ্নও। রাজনীতি এখন ততটাই সমাজবিমুখ, যতটা সে ক্ষমতামুখী। তাই আদর্শের রাজনীতির তেলের সঙ্গে মাঠের ওরফে ভোটের রাজনীতির জল কতটা মিশ খাবে, তার উত্তর ভবিষ্যতের গর্ভে বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া উচিত হবে না নুরুলদের।






