মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ট্রাম্পের চমক থামছে না। কাতারের ওপর সৌদি বলয় তিন বছরের যে অবরোধ দিয়েছিল তার অবসান হয়েছে। অবরোধ অবসানে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর জামাতা ও হালের মধ্যপ্রাচ্যের অলিখিত ভাগ্যবিধাতা জ্যারেড কুশনার। শুরুর দিকে ট্রাম্প অবরোধকে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছিলেন এবং টুইট করেছিলেন। কিন্তু সেই ট্রাম্পই আবার অবরোধ অবসানের নায়ক।

মৌসুমি বাতাসের ন্যায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন হয়। বোঝা দায়। আর মৌসুমি বাতাসের এই পরিবর্তনে ফুলে ফেঁপে স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠে পশ্চিমের কোষাগার। তবে এই অবরোধ প্রত্যাহারে নিশ্চিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সৌদি বলয়ের, বিশেষ করে বিন সালমানের গ্রহণযোগ্যতা। ইতিহাসের পাতায় এই অবরোধ প্রত্যাহারকে বিন সালমানের প্রথম রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে লেখা হবে।২০১৭ সালের জুন মাসের ৭ তারিখ। গ্রীষ্মের সকালে কাতারিদের ঘুম ভেঙেছিল সৌদি-আমিরাত বলয়ের অবরোধের সংবাদ শুনে। অবরোধ অবসানে মোট শর্তের সংখ্যা ছিল ১৩টি। প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান গণমাধ্যম আল–জাজিরার দরজা সিলগালা করা, ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছিন্ন করা, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ মুসলিম ব্রাদারহুডকে অর্থসাহায্য এবং রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেওয়া। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক শর্ত ছিল দোহায় তুরস্কের সেনাঘাঁটি বন্ধ করার শর্ত। এই শর্তের মধ্যে সৌদি বলয়ের আচমকা হামলা করে কাতার দখলের হুমকি ছিল। আপাতদৃষ্টিতে কাতার কোনো শর্ত মানেনি। বরং আগের পথেই হেঁটেছে, সৌদি বলয়ের বিরোধীদের একত্র করেছে এবং তুরস্ক, তিউনিসিয়া, মালয়েশিয়া এবং স্বল্প পরিসরে পাকিস্তানকে কাছে টেনে নিজস্ব বলয়ের শক্তি বৃদ্ধি করেছে।মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে প্রথাগতভাবে কাতার প্রথম শ্রেণির মার্কিন মিত্র। ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে আমলে না নিলেও সৌদি বলয়ের কাতার অবরোধের সময়কাল ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এই অবরোধ ঘটেছিল ট্রাম্প ক্ষমতা পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই। দ্বিতীয়ত, ২০১৭ সালের জুনের ৫ তারিখে যখন সৌদি বলয় কাতার অবরোধের ঘোষণা দেয়, তার ছয় মাস পরই ডিসেম্বরের ৬ তারিখ ট্রাম্প মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে হস্তান্তরের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে মার্কিনরা মূলত জেরুজালেমকে ইসরায়েলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। দ্বি-রাষ্ট্রিক ব্যবস্থা, আরব লিগ অনুমোদিত ২০০২ সালের আরব পিস ইনিশিয়েটিভসহ ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকা সম্পর্কিত সব চুক্তিকে মাড়িয়ে ট্রাম্প এককভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।