গত সপ্তাহ থেকে পত্রিকা এবং টেলিভিশনে যে খবরটি সবাইকে মর্মাহত করেছে তা হলো, অনবরত ঘটে যাওয়া ধর্ষণ। সর্বোচ্চ বিচার ফাঁসির দাবি জনমতের। বিগত কয়েক দশক থেকে এই বিকৃত ব্যাধি ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। অপরাধীদের ফাঁসি দিলেই কি এ সমস্যার সমাধান হবে? আসলে এর কারণ খুঁজতে হবে। কোনো সমাজে যখন শ্রেণিবৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করে, সেখানে অপরাধও সমানভাবে বেড়ে যায়। একটা শ্রেণি রাতারাতি অবৈধ সম্পদের মালিক হয়ে যায়। অনেকে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে সেখানে বিলাসিতায় জীবন যাপন করছে। একা কেউ কোনো অপরাধ করতে পারে না।
অপরাধের পেছনে আর্থিক লোভে কিছু ইন্ধনকারী সহযোগিতা করে। আমাদের সমাজে এই প্রবণতা বহুলাংশে বেড়ে গেছে। এর বড় একটা কারণ, সর্বত্রই অবক্ষয়। আর একটা কারণ, ঠিকমতো অপরাধের বিচার না হওয়া। একটা বিরাট সমস্যা সমাজে বিদ্যমান, সেটা হলো শিশু নির্যাতন। শুধু গ্রামে নয়, শহরেও সমানভাবে শিশু নির্যাতন চলে। আর মাদ্রাসাগুলোর চিত্র আরও ভয়ংকর। শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি চলে পৈশাচিক অত্যাচার। গরিব মা-বাবা দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে শিশুটিকে বাঁচাতে আল্লাহর নামে মাদ্রাসায় ভর্তি করান। আবার পরকালের কিছু আশাও কাজ করে। ছেলে মৌলভি হয়ে বেহেশতে যাবে এবং তাদেরও সঙ্গে নেবে। এ রকম নানা চিন্তা কাজ করে। কিন্তু নির্যাতন এবং অত্যাচারে বেড়ে ওঠা শিশুটি পরবর্তী সময়ে এক ভয়ংকর দানবে পরিণত হয়। সামাজিক মাধ্যমে মাদ্রাসার তথাকথিত হুজুর শিশুদের কীভাবে নির্যাতন করে, তা দেখে সহ্য করা যায় না। শিশুটিকে বলের মতো লাথি মারতে দেখে চোখের পানি আটকাতে পারিনি। আহা রে, গরিবের বুকের মানিককে কোন পিশাচের কাছে জিম্মি রেখেছে। এর কোনো বিচার কখনো হয়েছে বলে মনে হয় না।






