এসএসসির পর ছুটিতে

এসএসসিতে অঙ্ক পরীক্ষার আগের রাতে আমার নানা মারা গেলেন। পরীক্ষা শেষে কোথাও ঘুরতে যাব, আনন্দ করব, তার জো নেই। কারণ, সবার মন খারাপ। এদিকে হাতে অফুরন্ত সময়। একগাদা বই কেনা হয়েছে। সে সময় বই কেনার জায়গা হলো ঢাকার নিউমার্কেট, নিউমার্কেটের দ্বিতীয় গেট দিয়ে ঢুকে বাঁয়ে সারি সারি বইয়ের দোকান। আমার ঘ্যানঘ্যানানির চোটে আব্বা বিরক্ত হয়ে নিউমার্কেটে নিয়ে অনেক বই কিনে দিলেন।

বন্ধুদের সঙ্গে অদল-বদল করে আরও বই এনেছি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন মোটামুটি গুলে খেয়ে শেষ করে বন্ধুর কাছ থেকে ধার করা সিডনি শেলডন, আগাথা ক্রিস্টি, মিলস অ্যান্ড বুনস পর্ব চলছে, তা–ও সময় কাটে না। আমরা থাকতাম আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারে। বিকেলে কোয়ার্টারের সব ছেলেমেয়ে ব্যাডমিন্টন খেলতাম। সন্ধ্যায় ধূলিধূসর পায়ে বাড়ি ফিরে হাত–মুখ ধুয়েই বই নিয়ে শুয়ে পড়তাম। টেলিভিশনে ম্যাকগাইভার আর হুমায়ূন আহমেদের নাটক ছাড়া তেমন কিছু দেখার ছিল না। লেট নাইট অপেরা ডালাস বা রিটার্ন টু ইডেন আম্মা দেখতে দিতেন না। ওগুলোতে বড়দের ‘সিন’ থাকে। নিচতলার ময়না আপু ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুলে ছবি আঁকা শিখতে যায়, ক্যানভাসে কাগজ চড়িয়ে ছবি আঁকে, দেখে জেদ ধরলাম আমিও শিখব। আম্মা ভর্তি করে দিলেন। সপ্তাহে দুই দিন ময়না আপুর সঙ্গে রিকশা চড়ে ছবি আঁকা শিখতে যাই। নতুন নতুন বলে প্রচণ্ড আগ্রহ। সারা দিন ছবি আঁকি। জলরঙের সৌন্দর্য মুগ্ধ করে। এভাবেই এসএসসির পরের ছুটিটা দ্রুত শেষ হয়ে গেল। কোচিং? না, তখনো কলেজ ভর্তি কোচিংয়ের ব্যাপারটা চালু হয়নি। কোন কলেজে পড়ব, তা নিয়েও কারও মাথাব্যথা ছিল না।

অন্য সময়

ঠিক ৩০ বছর পরে, এ বছর আমার ছেলে যুহায়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। ব্যবহারিক পরীক্ষা সামনে। পরীক্ষার সিট পড়েছে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে। স্কুলের সামনে অভিভাবকদের বলতে শুনি, কলেজে ভর্তির জন্য কোচিংয়ের ফরম নিয়েছেন? কোন কলেজে দেবেন? অমুক কলেজের টিচিং স্টাফ শুনেছি অত ভালো না। তমুক কলেজে সারাক্ষণ এত চাপ দিয়ে রাখে যে এইচএসসিতে স্যারের বাসায় পড়ার সময়ই মেলে না! এইচএসসিতে সময় তো খুব কম, দেখেশুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খালি নামে ভুললেই হবে না।