বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের তথ্যেই অনিয়মের চিত্র

দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা তরতরিয়ে বাড়লেও এগুলোর শিক্ষার মান বাড়ছে না। ২৭ বছর ধরেই সমস্যার বৃত্তেই ঘুরছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। সমস্যাগুলো জানা থাকলেও সমাধান নেই। বরং নতুন নতুন সমস্যা সামনে আসছে। শিক্ষা পরিষদ, সিন্ডিকেট, পরিচালনা পর্ষদ ও অর্থ কমিটির সভা না করা, উপাচার্যসহ শীর্ষ তিন পদে নিয়োগে অনাগ্রহ, নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে গড়িমসির মতো সমস্যা তো আছেই। পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়োগেও আছে ঢিলেমি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এসব নানা সমস্যার কথা উঠে এসেছে উচ্চশিক্ষার দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে। ইউজিসি বলছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অনেকাংশই লঙ্ঘিত হচ্ছে, যা কাম্য নয়। এ জন্য এই বিষয়গুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণে আনার সুপারিশ করেছে ইউজিসি। গত ২৯ ডিসেম্বর প্রতিবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে জমা দিয়েছে ইউজিসি।

ইউজিসির একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, বার্ষিক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজেদের দেওয়া তথ্যের ওপর। সেখানেই এত অনিয়ম-অব্যবস্থার চিত্র রয়েছে। প্রকৃত অবস্থা আরও খারাপ।

দেশে ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। গত মাসে প্রকাশ করা হলেও ইউজিসি প্রতিবেদনটি করেছে ২০১৮ সালের তথ্যের ভিত্তিতে। তখন দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ১০৩টি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৯২ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ১ লাখ ১৪ হাজার ৬১৫ জন। শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বড়জোর ১৫টি ভালোভাবে চলছে বা চলার চেষ্টা করছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বর্তমান অবস্থাকে একেবারে অসন্তোষ বলব না, আবার পুরোপুরি সন্তুষ্টও বলব না। তবে সমস্যাগুলো সমাধান করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’

ইউজিসির প্রতিবেদন বলছে, আটটি বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৮ সালে শিক্ষা পরিষদের সভাই (একাডেমিক কাউন্সিল) করেনি। অথচ ভর্তিসহ শিক্ষা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শিক্ষা পরিষদের সভা লাগে। ওই বছর সিন্ডিকেটের সভা না হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এবং ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ কমিটির সভা হয়নি।