টিম মিটিং আর লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে এলেন সৌম্য সরকার। তাঁর সংবাদ সম্মেলনটা শুরুই হলো মোসাদ্দেক হোসেনের ঘটনা দিয়ে। একের পর এক ক্রিকেটার সংবাদ শিরোনাম হচ্ছেন নেতিবাচক ঘটনায়। এটা দেশের ক্রিকেট ও খেলোয়াড়দের জন্য কতটা বিব্রতকর? সৌম্য কোনোভাবে ‘ডাক করা’র চেষ্টা করলেন।
বাঁহাতি ওপেনার বললেন, ‘এটা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। এখন যেহেতু ক্যাম্প শুরু হয়ে গিয়েছে আমরা চেষ্টা করছি, ব্যক্তিগত নেতিবাচক বিষয় সামনে না এনে ইতিবাচক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে। যেহেতু এশিয়া কাপ সামনেই, ১৫-১৬ দিন পরে। সবার চোখ সেখানেই। বড় টুর্নামেন্টে কীভাবে ভালো করা যায়, সেভাবে অনুশীলন করছে সবাই।’
আবারও একই বিষয়ে প্রশ্ন, এই যে বারবার ক্রিকেটাররা বিতর্কিত ঘটনা জন্ম দিচ্ছেন, এটি রোধে নিজেদের মধ্যে কি আলোচনা হয়? সচেতনতা তৈরির কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়? সৌম্য একটু বিরক্তই হলেন, ‘ভাই, ১৫ দিন পরই খেলা। সবার চিন্তা এশিয়া কাপ নিয়ে। কীভাবে ভালো খেলা যায়, সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। এ নিয়ে চিন্তা করার কোনো সময় নাই কারও। দল কীভাবে ভালো করবে, সেটা নিয়ে সবাই চিন্তা করতে চাই।’
নেতিবাচক ঘটনা নিয়ে কেই-বা চিন্তা করতে চায়? কিন্তু উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো ঘটনাই তো ঘটাচ্ছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। এর বিতর্কিত ঘটনা বেশি ঘটাচ্ছেন তরুণ খেলোয়াড়েরা। মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম কিংবা মাহমুদউল্লাহ—জাতীয় দলকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন একযুগের বেশি সময় ধরে। কারও বিরুদ্ধে শোনা যায়নি নারীঘটিত কিংবা গৃহকর্মী নির্যাতনের মতো অভিযোগ। তরুণ ক্রিকেটাররা একটু প্রচারের পাদপ্রদীপে এলেই তাঁদের বিরুদ্ধে উঠছে নানা অভিযোগ। আর যাঁদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠছে, সেটির প্রভাব পড়ছে তাঁদের পারফরম্যান্সেও।
গত কিছুদিনে তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে অনেক কথাই হচ্ছে। সাকিব, তামিম, মাশরাফি, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ ধারাবাহিক ভালো খেলছেন বলেই বাংলাদেশ সাফল্য পাচ্ছে। চিন্তার বিষয় হচ্ছে, তামিমের সঙ্গে একজন ওপেনার থিতু করা যায়নি গত ১১ বছরেও। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সাকিব তিন নম্বরে ব্যাটিং করায় এই পজিশনের চিন্তা সাময়িক দূর হয়েছে ঠিক, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া যায়নি। লোয়ার মিডল অর্ডার বিশেষ করে সাত নম্বর পজিশন নিয়েও সমস্যা থেকেই গেছে। তরুণ ব্যাটসম্যানদের কাছে এবার এশিয়া কাপে বাংলাদেশ কী আসা করতে পারে? সৌম্য অবশ্য আশা দিচ্ছেন, ‘তরুণদের সব সময়ই চ্যালেঞ্জ থাকে। সিনিয়ররা সব সময় ভালো করেন, আমরাও যদি ভালো করি তাহলে ভালো ফল আনতে সুবিধা হবে। ওনাদের পাঁচজনের সঙ্গে আমরা যদি একটু একটু করেও ভালো করি, তাহলেও ফল ভালো হবে।’






