নির্বাচন কমিশনের কার্যত কোনো ভূমিকা নেই

এখানে নির্বাচন কমিশনের কার্যত কোনো ভূমিকা নেই। খোন্দকার মোহাম্মদ নূরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন নামে যে শিখণ্ডী প্রতিষ্ঠানটি আছে, নির্বাচন কিংবা ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর তাদের  নিয়ন্ত্রণই নেই। তাদের দায়িত্ব হলো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের নামে বিশেষ সম্মানী ভাতা নেওয়া এবং ভোটকেন্দ্রে ভোটার আসুক বা না আসুক রাতের বেলা ফলাফল ঘোষণা করা। পৃথিবীর ইতিহাসে এ রকম অথর্ব ও অক্ষম নির্বাচন কমিশন দ্বিতীয়টি আছে কি না সন্দেহ।

অতীতে দেখেছি, নির্বাচন কমিশন মাঝেমধ্যে সরকারি দলের খবরদারি ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে কথা বলত। বর্তমান কমিশন টু–শব্দটুকুও করে না। এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব যাঁরা নিয়েছেন, তাঁরা সুষ্ঠু নির্বাচনের চেয়ে চাকরি রক্ষাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তাঁদের সৌভাগ্য যে বিএনপির মতো দিশেহারা ও নেতৃত্বশূন্য দলটি এখন বিরোধী দলে আছে। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকলে তারা টের পেত কত ধানে কত চাল। আন্দোলনের মুখে আজিজ কমিশনের মতো অপমানজনকভাবে বিদায় নিতে হতো। বিচারপতি আবদুর রউফ ও বিচারপতি এম এ সাদেকও কিছুটা উপলব্ধি করেছেন। তবে এম এ আজিজের মতো নয়।

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব কোনো দলকে ক্ষমতায় আনা বা ক্ষমতা থেকে নামানো নয়। তাদের কাজ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা—ভোটাররাই সিদ্ধান্ত নেবেন, কে ক্ষমতায় আসবেন, কে আসবেন না। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার পূর্বশর্তগুলো হলো যথাক্রমে:
১. প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা মাঠ সমতল রাখা, যাতে তাঁরা ভোটারদের কাছে গিয়ে নিজ নিজ কর্মসূচি তুলে ধরতে পারেন।
২. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা, যাতে নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
৩. নির্বাচনের পরিবেশ এমনভাবে তৈরি করা, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।

ক্ষমতাসীনেরা সব সময়ই নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রশাসনকে ব্যবহার করে থাকেন বা করতে চান। এ কারণে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চাকরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে নেওয়া হয়। সংবিধানের ১২০ অনুচ্ছেদে আছে, ‘নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনের জন্য যে রূপ কর্মচারী প্রয়োজন হইবে, নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সেই রূপ কর্মচারী প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন।’
কিন্তু পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেই দায়িত্ব কতটা সুষ্ঠুভাবে পালন করছেন, তার দুটি উদাহরণ এখানে তুলে ধরছি।