দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রে থাকবে মূল্যবোধ ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য

উদার বৈশ্বিক ব্যবস্থা সেই বিংশ শতাব্দীতেই আটকে আছে। চীন ও রাশিয়ার মতো স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো যেখানে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বিস্তৃত করছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক কোয়াড (যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত) জোটের মতো আঞ্চলিক জোট তৈরিকরণে ব্যস্ত। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ছিল একটি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা, যে দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রে থাকবে মূল্যবোধ ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য।

গণতন্ত্রের চাওয়া-পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃত্ববাদের নতুন এই ধরন ক্রিমিয়া থেকে তাইওয়ান পর্যন্ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ‘গ্রে-জোন’-এর যুদ্ধনীতি পূর্ব ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক অখণ্ডতা, মুক্তবাণিজ্য ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক নির্বাচন, প্রযুক্তির সরবরাহব্যবস্থা ও আইনের শাসনকে ঝুঁকিতে ফেলছে। এসব ছোটলোকি হুমকি এখন আর শুধু ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা রাশিয়ার সমস্যা নয়। তারা সব ধরনের উদার সমাজ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকেই টার্গেট করেছে। এটা অতিশয় দুর্ভাগ্য যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র যে বৈশ্বিক কাঠামো তৈরি করেছে, তা কোনো উদার সমাজের সহজাত বিষয়গুলোর জন্য উপযুক্ত নয়। জি-৭, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কোয়াড আঞ্চলিকভাবে খুব তৎপরতা চালাচ্ছে, যেন বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বেশ জোরালোভাবে সাড়া জাগাতে পারে।