দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে জ্বালানি তেল ও ডলারের দাম

দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ববাজারে অল্প অল্প করে হলেও বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। একই সঙ্গে দেশে বাড়ছে এর ব্যবহার ও আমদানি। আমদানির সঙ্গে জড়িত মার্কিন ডলার। সেই ডলারের দামও প্রায় দুই বছর ধরে বাড়ছে। এসবের পুঞ্জীভূত প্রভাবে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে এ বছর প্রায় আট হাজার কোটি টাকা (প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার) লোকসানের আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বিপিসির সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে তাদের যে তেলের চালান এসেছিল, তাতে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম পড়েছিল ৪৩ দশমিক ১৭ ডলার। আর গত আগস্টে তারা আমদানি করেছে প্রতি ব্যারেল ৮১ দশমিক ৫১ ডলারে। ২০১৬ পর্যন্ত বিপিসি অবশ্য মুনাফা করেছিল প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। তখনো জ্বালানি তেলের মূল্য তেমন কমানো হয়নি।

আমদানি করা জ্বালানি তেলের অর্ধেকের বেশি ডিজেল। ২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রতি ব্যারেল ডিজেল আমদানি করা হয়েছে ৫০ দশমিক ৩০ ডলারে। গত আগস্টে সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৯১ দশমিক ৭০ ডলার। বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে সরকারি-বেসরকারি খাতের অনেকের ধারণা, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করবে।

জানতে চাইলে বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ম. তামিম প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কখন বাড়বে, আর কখন কমবে, তা অনুমান করা খুব কঠিন। বিশ্বব্যাংকসহ অনেকেরই পূর্বাভাস ছিল আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দাম ৮০ ডলারে উঠবে। কিন্তু সেপ্টেম্বরেই ৮০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আবার ইরানের সঙ্গে ইউরোপের চুক্তি হলেই দাম কমতে শুরু করবে। এই দাম কমা-বাড়ার বিষয়ে বাংলাদেশের কিছু করার নেই।

ম. তামিম আরও বলেন, বাংলাদেশের যেটা করা দরকার, সেট হলো নিজেদের জ্বালানিসম্পদ আহরণে ও ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানো। তেলের দাম প্রায় দুই বছর অনেক কম ছিল। ওই সময়ের মধ্যে নিজেদের সম্পদ আহরণের হার বাড়াতে পারলে এখনকার মূল্যবৃদ্ধি গায়ে লাগত না। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা নিজেদের জ্বালানিসম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণ বাড়াতে না পারা।

বর্তমান দামে প্রতি লিটার ডিজেলে বিপিসির লোকসান হচ্ছে প্রায় ৯ টাকা। আর প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলে লোকসান ১২ টাকার বেশি। সব মিলে বর্তমানে বিপিসির প্রতিদিনের লোকসান প্রায় ২০ কোটি টাকা। মাসে লোকসান হচ্ছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

প্রায় তিন বছর ধরে দেশে অকটেন ও পেট্রল আমদানি করতে হচ্ছে না। দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে গ্যাসের উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট দিয়ে দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে চাহিদার শতভাগ অকটেন-পেট্রল। ফলে এই দুটি পণ্যে সরকারের মুনাফা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY