চই মুন জিয়ং। সিউলের পশ্চিমাঞ্চলের এক শহরতলির বাসিন্দা। একটি বড় প্রতিষ্ঠানে কর হিসাবরক্ষক হিসেবে বেশ সুনাম তাঁর। কাজের দক্ষতার কারণে বসের কাছেও প্রিয়। একদিন তাঁর জীবনে এল আকাঙ্ক্ষিত দিন। জানতে পারলেন, তিনি মা হতে চলেছেন। সেই আনন্দের খবরটি বসকে জানানোর পর যে প্রতিক্রিয়া পেলেন, তাতে তিনি হতভম্ব হয়ে যান। বস তাঁকে বললেন, ‘তোমার সন্তান হলে তো সেই তোমার কাছে সবচেয়ে প্রাধান্য পাবে। আর প্রতিষ্ঠান থাকবে দ্বিতীয় তালিকায়। তাহলে তুমি কি কাজ করতে পারবে?’ শুধু একবার নয়, বিভিন্নভাবে তিনি বারবার একই কথা শুনিয়েছেন।
শুধু যে বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন, তা নয়। প্রতিদিন মুন জিয়ংয়ের ওপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হতো। অযথাই চিৎকার–চেঁচামেচি করতেন। এ নিয়ে অফিসে অভিযোগ করা হলে উল্টো বস আত্মপক্ষ সমর্থনে বলে বসেন, ‘কাজে মনোযোগ নেই মুন জিয়ংয়ের।’ এত দিন যাঁর কাজের জন্য এত প্রশংসা করা হতো, আচমকা তিনি চোখের বালি হয়ে গেলেন।
মুন জিয়ং বিবিসিকে বলেন, ‘এত অশান্তি আর আমি নিতে পারছিলাম না। একদিন আমার শরীর কাঁপতে থাকত। চোখ খুলতে পারছিলাম না। আমার সহকর্মীরা চিকিৎসক ডেকে নিয়ে আসেন। আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসক বলেছেন, অতিরিক্ত চাপের কারণে এসব হচ্ছে। এ থেকে আমার গর্ভপাত হতে পারে।’ তবে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় সন্তানটি। এক সপ্তাহ পর হাসপাতাল থেকে কাজে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন, বস চাইছিলেন, তিনি যেন স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেন। মুন জিয়ংয়ের মতো এ অভিজ্ঞতা দেশটিতে খুব অস্বাভাবিক নয়।






